 |
ঢাকা: সিরিয়ার বিরোধী জোট সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের (এসএনসি) প্রধান আবদুল বাসেত সাইয়েদ বিদ্রোহী যোদ্ধাদের অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার জন্য বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সপ্তাহ খানেক আগে বিদ্রোহীদের হামলায় সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ শীর্ষস্থানীয় চার কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত সেনাবাহিনী বিদ্রোহী দমনে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে।
এ মুহূর্তে বিদ্রোহীদের ঘাঁটি আলেপ্পোতে ব্যাপক লড়াই চলছে। সরকারি বাহিনী শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে এসএনসি প্রধান বাইরের রাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র সহায়তা চাইলেন।
তিনি আরো বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে আশ্রয় না দিয়ে বরং ‘গণহত্যার’ দায়ে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিৎ।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোও সিরিয়ার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর আলেপ্পো ভয়াবহ রক্তপাতের আশঙ্কা করছে। গত শুক্রবার জাতিসংঘের সিরিয়া মিশনের প্রধান বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট আসাদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তারা ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে এবং দুর্বল হয়ে পড়ছে।”
গত শনিবার আবুধাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসএনসি প্রধান আবদুল বাসেদ সাইয়েদ বলেন, “আমরা এমন অস্ত্র চাই যা ট্যাঙ্ক এবং জেট বিমানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারবে।”
তিনি ‘আরব ভাই এবং বন্ধুদের’ ফ্রি সিরিয়ান আর্মিকে সহায়তার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, সিরিয়ার বিদ্রোহী যোদ্ধাদের পশ্চিমা দেশগুলো অস্ত্র ও রসদ দিয়ে সহায়তা করছে এমন অভিযোগ প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকার করে আসছে। অবশ্য বিদ্রোহীরাও এ অভিযোগ কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেনি।
গত এপ্রিলে উপসাগরীয় দেশগুলো সিরিয়ার বিদ্রোহী সেনাদের সংগঠন ফ্রি সিরিয়ান আর্মির যোদ্ধাদের বেতন দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। এ ব্যাপারে তারা একটি তহবিল গঠনেও একমত হয়েছিল। তবে সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এ তহবিল দিয়ে কালোবাজারে অস্ত্র কেনা হতে পারে।
আবু ধাবিতে ওই সংবাদ সম্মেলনে সাইয়েদ আরো বলেছেন, “যেহেতু এসএনসি’র নেতারা সবাই নির্বাসিত তাই তারা দেশে সরকার উৎখাতে যারা যুদ্ধ করছে তাদের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করছেন।”
তিনি বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরিকল্পনাটি যাচাই করে দেখছি। সিরিয়ায় আর যেসব বিদ্রোহী বাহিনী রয়েছে সবার সঙ্গে আমরা এ নিয়ে কথা বলব।”
এদিকে, পরিস্থিতির আরোও অবনতির প্রেক্ষিতে সিরীয় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একে একে আসাদের পক্ষ ত্যাগ করছেন। সর্বশেষ শুক্রবার সিরিয়ার একজন পার্লামেন্ট সদস্য পক্ষ ত্যাগ করে তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির এ সদস্য সিরিয়ার পার্লামেন্টে আলেপ্পো থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন।
অপরদিকে, সহিংসতা বৃদ্ধির পেক্ষিতে বিদেশি সাহায্যকর্মীদের দামেস্ক থেকে লেবাননে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেডক্রস। এছাড়া, আলেপ্পোতে কার্য্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
বাংলাদেশ সময়: ১৩২৩ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর