ঢাকা: পুঁজিবাজারের ধারাবাহিক দরপতনে অধিকাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ারের দাম ফেস ভ্যালুর চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য মতে, ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর শেয়ারের দাম কমে বর্তমানে ৪ থেকে ৭ টাকার মধ্যে নেমে যায়। তাই বিনিয়োগকারীরা মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আধিপত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে ডিএসই সূচক ও লেনদেনের ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সপ্তাহের মোট ৫ কার্যদিবসেই ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রাধান্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
ডিএসই’র ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, ডিএসইতে মোট মিউচ্যুয়াল ফান্ড রয়েছে ৪১টি। যার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফেস ভ্যালূর নিচে অবস্থান করছে ২১টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। তবুও গত সপ্তাহে ডিএসইতে দাম বাড়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবগুলোই ছিল মিউচ্যুয়াল ফান্ড।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, দরপতনের ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট ১০ টাকা ফেসভ্যালু মূল্যের আইএফআইএল ইসলামিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১’র দাম ছিল ৪ দশমিক ১০ টাকা। এপর এ ফান্ডের শেয়ারের দাম সামান্য ওঠানামা করার পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে একটানা বাড়তে থাকে। ২০ সেপ্টেম্বর এ ফান্ডের শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৬ টাকায়।
সপ্তাহের লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বাড়ার শীর্ষে অবস্থান করছে গ্রামীণ মিউচ্যুয়াল-১ ফান্ডের শেয়ার। গত সপ্তাহে এ কোম্পানির শেয়ারের দাম ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত সপ্তাহে ফান্ডের মোট ১৪ কোটি ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার দৈনিক গড় দাঁড়ায় ২ কোটি ৯৩ লাখ ৭ হাজার ২০০ টাকা।
ডিএসই’র ওয়েবসাইট থেকে আরও জানা গেছে, ২০০৫ সালে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকা এবং মার্কেট লট ৫০০টিতে।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার এ ফান্ডের বাজার মুলধন দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এছাড়া এ কোম্পানির পরিশোধিত মুলধন ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বাজারে এ কোম্পানির মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ শেয়ার রয়েছে। যার মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ১০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
সাপ্তাহিক দাম বাড়ার ভিত্তিতে ডিএসই’র শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- গ্রামীণ-১ মিউচ্যুয়াল ফান্ড (৬০ দশমিক ০৬ শতাংশ দাম বাড়ে), প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মি. ফান্ড (৫৪ দশমিক ২৬ শতাংশ), গ্রামীণ ওয়ান স্কিম-২ মিউচ্যুয়াল ফান্ড (৫১ দশমিক ৭২ শতাংশ), পিএইচপি ফার্স্ট মি. ফান্ড (৪৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ), ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড (৪৩ দশমিক ১৪ শতাংশ), আইএফআইএল ইসলামিক মি. ফান্ড (৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ), ফনিক্স ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড (৪২ দশমিক ৫৫ শতাংশ), আইসিবি এএমসিএল তৃতীয় মিউচ্যুয়াল ফান্ড (৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ), ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মি. ফান্ড (৪১ দশমিক ০৭ শতাংশ) এবং এআইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড (৪০ দশমিক ৮২ শতাংশ) দাম বাড়ে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩২৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১২
এসএনএইচ/ জেডএম