 |
আমার সাজানো সবুজাভ বুনোট দেহলতা আজ কি বিচিত্র কুহক-ছায়ায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে শঙ্খের মতো পলাতক কান্নার রোলে মেতে ওঠে, আহা! যার বাঁশির কৌশলী ফুৎকারের আকর্ষণে আমার মুরতি মৎস্যরঙ্গ বারবারই উড়ে উড়ে যেত সেই মথুরার হাটে, তেপান্তরের শত-শাদ্বল মাড়িয়ে-ছড়িয়ে সেই কদমবনে, সেই ছইহীন নায়ের তলায় তোলা ব্রহ্মপুত্রের জলের ছলাৎ আলিঙ্গনে... সে কি আর বুঝতে পেরেছিলো আমার অমন যাত্রায় লেগে আছে বিশ্বাস আর ভালোবাসার অকিঞ্চনে জেগে ওঠা মুহুর্মুহু উচ্ছ্বল পরতের কতটুকু ঠাসবুনন! নইলে কি আর পারতো আহা, এতটা নির্দয় নিষ্ঠুর হতে!
আমার নিঃশ্বাসের নিকোনো উঠোনে জেগে থাকা নিবিড় আবির আতিথ্যের বলয়ে তবু সে-ই প্রথম স্নিগ্ধকান্তিময় কদম্ব-কোরকের মখমল মঞ্জিমা হয়ে ফুটলো। সেবার যেন প্রণয়-পূজারী নর্তকী বরষাও এলো প্রথম, নতুন করে। আমার সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে বরষা ফেললো তার মত্ত মদিরার নোঙর। আমার মনভূমি উড়ালো তখন সবুজ-শালিখ প্রাণ, তার পাখায় পাখায় ভর করেছে সে যে কি রো শ না ই! আর এখানেই ঘটলো আমার স্পর্ধিত উত্থান যত, আমার অলক্ষ্যেই! সে আমার নিমীলিত চোখে রেখেছিলো তার সমস্ত মৃদুকম্পন, কবোষ্ণ উষ্ণতা... আর্যের প্রথম বিধাতা হয়ে যেন আমার সিঁথিতে এঁকেছিলো সুকান্ত সিঁদুর- এই প্রথম।
...এরপর সীমন্তিনী আমি, কত না পুণ্যতোয়া পিলসুজ হাতে কাটিয়ে দিয়েছি ঘন বন্ধ্যা-সন্ধ্যা, রাত্রি...! আর একবার বৃষ্টি যদি হতো... আরও একবার নামতো যদি সেই সন্ধ্যা...
কিন্তু হায়, কি নিস্তেজ নিয়তি, সেই পুণ্যশ্লোক মেঘ আর কোনওদিন আমার সিঁথি পঙ্ক্তিতে অমন বাঙ্ময় হয়ে রাঙে নি।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৩০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১২
সম্পাদনা: তানিম কবির, tanimkabir@gmail.com