 |
ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো ঐতিহাসিক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে, আইনজীবীদের উচ্চবাচ্চে নয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বাংলানিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে একথা বলেন।
তিনি বলেন, ``বডি ল্যাঙ্গুয়েজ (শরীরের ভাষা) দিয়ে ইতিহাস পাল্টে দেওয়া যাবে না।``
আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে সরকার পক্ষের প্রসিকিউটরদের বিভিন্ন সময়ই কথার মারপ্যাঁচে কাবু করে দিচ্ছেন এমন প্রসঙ্গেই মাহবুবে আলম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আসামি পক্ষের আইনজীবীরা যা করেন তা আদালত অবমাননা। সাবমিশনে ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনো আইনজীবীর থেকেই কাম্য নয়। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা সেটাই করছেন। শুধু করছেন তাই নয়, অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে করছেন।”
এজন্য আসামি পক্ষের সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের ‘নাকে খত দেওয়া উচিত’ বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল: “এজন্য তাদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
প্রফেসর এমিরিটাস আনিসুজ্জামানকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ‘মিথ্যুক’ বলায় বাংলানিউজের কাছে এভাবেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতো সর্বজনশ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তির ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া জাতির জন্য একটি বড় পাওয়া। আদালতে তার উপস্থিতি আমাদের আনন্দিত ও গর্বিত করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে দুঃখও পেয়েছি এই জন্য যে, বিচারালয়ে এসে তার মতো ব্যক্তিত্বকে অপমানিত হতে হয়েছে।”
মাহবুবে আলম বলেন, “একজন আইনজীবী, যিনি আইনজীবী হিসেবে কোনো মেধারই প্রকাশ করতে পারেননি, তিনি যখন একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বকে `মিথ্যুক` বলেন, তখন ভেতরে ক্রোধ অনুভব করি। কিন্তু আমি এই ব্যাপারে কোনো ভুমিকা নিতে পারিনি, এটাই কষ্টের।”
মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ফখরুল ইসলামকে নিয়েই কথা হচ্ছিল অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে। ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এজন্য আদালত অবমাননার অভিযোগ আনলে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে জানালে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ``নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনাই তার জন্য যথার্থ নয়, তাকে জনসমক্ষে তার বক্তব্যের জন্য নাকে খত দেওয়া উচিত।``
এই আইনজীবী এর আগেও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটুক্তি করেছেন উল্লেখ করে মাহবুবে আলম বলেন, ``তার (ফখরুল) মতে যুদ্ধ হয়েছিল পাকিস্তান আর ভারতের মধ্যে।``
``আর একটি সত্য কথা হলো, মামলার মেরিট খারাপ হলে আইনজীবীরা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে মামলার মেরিট তৈরির চেষ্টা করেন। এই আইনজীবীর ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। বাংলা শব্দকে যারা উর্দু হরফে লিখতে চেয়েছে, যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমাদের দেশে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে, তারা কিংবা তাদের উত্তরসূরীরা এখনো স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছে,” বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দল নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে, অনেক সমালোচনা হচ্ছে, কারো কারো চলে যাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে, এমন প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ঐতিহাসিক বিষয় এবং এখানে যারা অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোও ঐতিহাসিক। প্রসিকিউটর হিসেবে যারা রয়েছেন, তারা বেশ অভিজ্ঞ। আর বিচার হবে তথ্য দিয়ে, এখানে প্রসিকিউটরদের ব্যর্থতার কিছু নেই।”
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আসামি পক্ষের আইনজীবীদের মিডিয়ার সামনে বড় বড় কথা বলতে তৎপর দেখা যায়। যা ঘটে না তা-ও বলে দেন। তাদের মনে রাখতে হবে মিডিয়ার সামনে তারা কী বললেন বা ভূমিকা রাখলেন তা দিয়ে বিচার হবে না।”
বিচারপ্রক্রিয়া ধীর গতিতে হচ্ছে কীনা জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “একটু তো ধৈর্য ধরতেই হবে।”
“জাতি স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ; তাই এ বিচার হতেই হবে,” আশাবাদ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের।
বাংলাদেশ সময় ০৭১৫ ঘণ্টা, জুন ০২, ২০১২
এমএমকে- menon@banglanews24.com
সম্পাদনা:জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
একান্ত সাক্ষাৎকারে অ্যাটর্নি জেনারেল
আগেই পেপারবুক পড়ে নিতে পারতেন হুমায়ূন আহমেদ