 |
কোমা
একটা চায়ের কাপ কত কত বার অনিচ্ছা চুমুর শিকার এই তথ্য থাকেনা কোন অধিদপ্তরে। একটা জলবিন্দু কতোটা মৃত্যুর পর বাস্প হয়ে যায় অথবা রোদের আসল বয়স কতো জানা নেই কারও।
একটা লাজুক বিকেলে এইসব ভেবে অস্থির একটা সুগন্ধি টিস্যু পেপার। একজন বেকার মানুষ সর্দি মোছার পর তাকে এই মাত্র ফেলে দিল কোন নর্দমায়।
একই সময় একটা চড়ুই পাখি সাড়ে সাত ঘণ্টা জ্বরে ভুগে মরে গেল। ঝরে গেল আরো একটা কৃষ্ণচূড়া ফুল। নিযুত লক্ষ আলোকবর্ষ দূরের একটা নক্ষত্র একটা টেলিস্কোপের ভেতর দিয়ে এই মাত্র চলে এল নাম না জানা কোন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর ঘরে।
কচটতপ
পাখা মেললেই তুমি অনন্ত শূন্যের অধীশ্বর হবেনা কখনও। তার চেয়ে বরং আগুনছাপ কৃষ্ণচূড়া পাখা মেলে দাও সুন্দরে। অধীর উচ্চতার একলা মৌনতার বদলে একটা মুখর সন্ধ্যা ভরে দাও প্রগলভতায়- যেন এক একটা কণ্ঠলগ্নতা হয়ে ওঠে শব্দের ঠাসবুনন। কেননা বড় হতে হতে গম্ভীর একাকীত্বের উন্মাদ মহামারী দেখে দেখে ক্লান্ত এ সময়। অদেখা জেব্রাপথে আজ মৃত পিঁপড়ার রক্তে আঁকা থমকে যাওয়া মিছিল।
রেসের চক্করে তোমাদের উল্লম্ফন থামাও; একটা আহত শালিখ হেঁটে পার হয়ে যাক কোন অদৃশ্য জেব্রাক্রসিং।
প্রত্যাবর্তন চিন্তা
ঘষে ঘষে মুছে ফেলতে পারো। অথবা এক একটি ফুঁয়ের বাতাস উড়িয়ে দিতে পারো শূন্যে। পায়ের ছাপ মুছে মুছে যেতে পারো বিকেল থেকে আবার দুপুরে যেখানে প্রাণান্ত চেষ্টায় আমি বারবার ভুল আঁকছি একটা পেঙ্গুইন। ডালিম চিরে তুলে আনতে পারো অবলাল আলো। প্রাচীন সিন্দুক খুলে নিতে পারো সময়ের গন্ধপুরাণ। ধুলোর ঠিকানাও বদলে দিতে পারো তোমার পায়ের ইচ্ছায়। সাবান জলের ফানুস উড়ে যাবার আগে কিছুটা নিঃশ্বাস ভরে রঙিন হতে দিলে রংধনু হতে পারে তোমার সন্তান।
অথচ
প্রতিটি স্পন্দকে অতিরিক্ত জীবন ধরে নিয়ে অযথাই রেফারির বাঁশির জন্য কান পেতে আছি।
বাংলাদেশ সময়: ১৫২২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১২