 |
| ছবি : নূর /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: সিমিন হোসেন রিমি। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক শহীদ বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা।
রিমির জন্ম ১৯৬১ সালের ১৯ আগস্ট। ধানমন্ডি গভ:মেন্ট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ইডেন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি। সক্রিয় রাজনীতি না করলেও রাজনীতিবিদ বাবার আদর্শ ধারণ করে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। রাজনীতি, সমাজের নানা অসঙ্গতি, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাবার চেতনা-আদর্শ ও বিভিন্ন কীর্তি নিয়ে সংবাদপত্রে লেখালেখি করছেন। বাবার অবদান ও কীর্তি নিয়ে বইও লিখেছেন।
ছোট ভাই তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ প্রথমে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পরে সংসদ সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়ার পর শূন্য হওয়া গাজীপুর-৪(কাপাসিয়া) সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সিমিন হোসেন রিমি। শনিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় তাকে এ মনোনয়ন দেওয়া হয়। তাকে এই মনোনয়ন দেওয়ার পর গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পুরো মাত্রায় নির্বাচনী আমেজ জমে ওঠে।
রোববার দুপুরে তার মুখোমুখি হয় বাংলানিউজ।
এ সময় একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে তুলে ধরেন তার মনোনয়নপ্রাপ্তি, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, স্থানীয় জনগণের প্রতি তার নিজের অঙ্গীকার, ভাই সোহেল তাজের সরে দাঁড়ানোসহ নানান প্রসঙ্গে তার খোলামেলা অভিমত। বাংলানিউজকের পক্ষে তার সাক্ষাৎকারটি নেন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আশরাফুল ইসলাম।
বাংলানিউজ: প্রথমবারের মত প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে নিজেকে জড়াতে যাচ্ছেন, নিজেকে অপ্রস্তুত মনে করছেন কি?
সিমিন হোসেন রিমি: মানুষ রাজনৈতিক জীব। সব মানুষই কোনো না কোনোভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আপনি জানেন যে, আমি রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে। ছোটকাল থেকে বাবা শহীদ বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের আদর্শ, রাজনৈতিক ভূমিকা ও কার্যক্রম দেখেই বড় হয়েছি। 
বলতে পারেন শৈশব থেকে মানুষের সঙ্গেই ছিলাম। বড় হয়ে রাজনীতিতে জড়িত না হলেও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। আমার এলাকা কাপাসিয়ায় শিশুদের নিয়ে কাজ করেছি। প্রায় ৫০টি স্কুলে স্কাউটিং আন্দোলন শুরু করেছি। মাঝেমধ্যে ঢাকা থেকে গিয়ে ক্লাসও নিয়েছি। সচেতনতা তৈরির জন্য মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনও করেছি।
তাই হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসছি তা মোটেও ঠিক নয়। নিজেকে অপ্রস্তুতও মনে করছি না।
বাংলানিউজ: কেমন রাজনীতি প্রত্যাশা করেন এবং বর্তমান জাতীয় রাজনীতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?
সিমিন হোসেন রিমি: সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনীতি চাই। সবাইকে ভাল পথে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। রাজনীতি কেবল জনগণের জন্য হোক এটাই চাই, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়।
বর্তমান জাতীয় রাজনীতি সম্পর্কে সমালোচনায় না গিয়ে এটা বলতে পারি, রাজনীতি আছে বলেই আমরা আছি, দেশ আছে-জনগণ আছে। তবে সুস্থ রাজনীতির জন্য চেষ্টাটাও তো থাকতে হবে। সেই চেষ্টাটাই করতে চাই।
বাংলানিউজ: আপনার নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি আপনার কমিটমেন্টগুলো কি কি?
সিমিন হোসেন রিমি: কাপাসিয়া প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত একটি এলাকা। কিন্তু এলাকাটিতে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে কাপাসিয়ার মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটানো; বিশেষ করে-শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ইত্যাদি নিশ্চিত করা।
বাংলানিউজ: একজন নারী হিসেবে সংসদ সদস্য হয়ে নারীকল্যাণে কি কাজ করতে চান?
সিমিন হোসেন রিমি: আমি মনে করি, নারীর উন্নয়ন পৃথক কোনো বিষয় নয়। সমাজের-রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন হলেই নারীর উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। নারী ও পুরুষকে পৃথক করে দেখতে চাই না।
বাংলানিউজ: আসন্ন উপ-নির্বাচনে নিজ দলের ভেতর থেকে, এমনকি নিজ পরিবার থেকে আপনার চাচা প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তাদের কেউ কেউ এখনও প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে বিরোধিতাও করছেন। বিশেষ করে আপনার চাচা আফসার উদ্দিন আহমদ পরোক্ষ বিরোধিতা করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। এসব বিরোধিতা কোনো প্রভাব ফেলতে পারে কি?
সিমিন হোসেন রিমি: এক পর্যায়ে এসব বিরোধিতা ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করি। আর চাচা তো (আফসার উদ্দিন আহমদ) গতকাল (শনিবার) বাসায় এসেছিলেন। আমি সবার সহযোগিতা চাই।
বাংলানিউজ: অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?
সিমিন হোসেন রিমি: শুনেছি বিএনপির যিনি প্রার্থী হবেন তিনি নাকি অন্য পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে আমি বলবো- সরাসরি দলের নামেই অংশ নিন। এছাড়া আর সব রাজনৈতিক দলকেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানাবো। জনগণ যাকে খুশি নির্বাচিত করবে। 
বাংলানিউজ: কাপাসিয়ার জনগণের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য?
সিমিন হোসেন রিমি: কাপাসিয়ার মানুষের আবেগ-ভালবাসার প্রতি সম্মান জানিয়েই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণে সম্মতি জানিয়েছি। তাদের উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য,আপনারা যেমন আমার প্রতি ভালবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, ঠিক তেমনি নির্বাচনেও সেভাবেই সমর্থন দেবেন। তাই আশা করি, অতীতে যেভাবে জনগণকে সঙ্গে পেয়েছি সেভাবেই পাবো।
অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচনে প্রচারণা কি চালাবো-কাপাসিয়ার মানুষ নিজে থেকেই আমার প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত এ অবস্থা থাকবে বলে মনে করি।
বাংলানিউজ: ভাই সোহেল তাজ মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন, অবশেষে সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করলেন- এ পরিস্থিতে তারই শূন্য হওয়া আসনে আপনি প্রার্থী। এতে পরিবারের সঙ্গে আপনাকে লড়তে হবে কি ? এছাড়া নির্বাচিত হলে আর মন্ত্রিত্ব দেওয়া হলে তা গ্রহণ করবেন কি?
সিমিন হোসেন রিমি: মনোনয়ন প্রাপ্তির পর সোহেল তাজ গতকাল (শনিবার) মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে আমাকে কংগ্রাচুলেট (অভিনন্দন) করেছে। পারিবারিক কোনো বিরোধ হবে বলে মনে করি না। প্রতিটি মানুষের একটি ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য থাকে। তার (সোহেল তাজ) জায়গাতে সে ঠিক আছে বলে আমি মনে করি। ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে আমি লড়ছি না –এটা বলতে পারি। কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোস না করেও বুদ্ধি দিয়ে কাজ করলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
মন্ত্রিত্ব পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমার নেই, কর্মী হয়েই কাজ করতে চাই। কাপাসিয়ার অভিভাবকহীন জনগণের প্রতি ভালবাসা থেকেই নির্বাচন করছি।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৭ ঘণ্টা, আগস্ট ২৬, ২০১২
এআই/এআর/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com