 |
ঢাকা: সামুদ্রিক ঘূর্ণীঝড় টাইফুন সাওলার আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দ্বীপদেশ তাইওয়ান। ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বর্ষণে অচল হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে এক সপ্তাহ লেগে যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
টাইফুনটি তাইওয়ানে আঘাত হানে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে। ফিলিপাইনে ঝড় এবং প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় ২৩ জনের প্রাণহানি এবং এক লাখ ৪৫ হাজার মানুষকে ঘর ছাড়া করার এক দিন পর তাইওয়ানে আঘাত হানল সাওলা।
তাইওয়ানের ন্যাশনাল ফায়ার এজেন্সি জানিয়েছে, ঝড় ও বন্যায় সৃষ্ট ভূমিধসে মধ্যাঞ্চলের চিয়াই শহরে একজনের মৃত্যুর খবর পাওযা গেছে। আট জন আহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই মোটরসাইকলে থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।
তাইওয়ানের বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বড় যেক’টি প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যালয় খোলা রয়েছে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম আগামী শুক্রবার ফের চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে কিছু আন্তর্জাতিকসহ বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ট্রেন চলাচলও বন্ধ।
জানা গেছে, তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, টাইফুনের তীব্রতার পরিমাপে ৫ এর ভিত্তিতে সাওলাকে টাইপ-২ টাইফুন বলা হয়। ঘূর্ণঝড়টি এখন তাইওয়ান ছেড়ে চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি দুর্বল হয়ে টাইপ-১ এ পরিণত হবে।
ঝড়ের পূর্বাভাসে বলা, টাইফুন দামরে নামের আরেকটি ঘূর্নীঝড় তাইওয়ানে আঘাত হানেনি। তবে শুক্রবার চীনের অর্থনৈতিক হাব শাংহাইয়ের উপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অবশ্য ততোক্ষণে এটি দুর্বল হয়ে উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হবে।
এদিকে চীনের আবহাওয়া সংস্থা, চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফুজিয়ান এবং পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংশু প্রদেশে বৃহস্পতিবার টাইফুন সতর্কতা জারি করেছে।
সেই সঙ্গে শুক্রবার দিনভর প্রবল বৃষ্টি, ভূমধস এবং রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ার সতর্কতা দিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, টাইফুন সাওলার নামকরণ করা হয়েছে লাওস এবং ভিয়েতনামের একটি বিরল স্তন্যপায়ী প্রাণীর নামে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৪৫ ঘণ্টা, আগস্ট ০২, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর