 |
ঢাকা: ড. ইউনূস নিজেই গ্রামীণব্যাংক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
তিনি বলেন, “সরকার ড. ইউনূসকে গ্রামীণব্যাংক থেকে বিচ্ছিন্ন করেনি, তিনি নিজেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন।”
বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে গ্রামীণব্যাংক ও ড. ইউনূস প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “আদালতে যাওয়ার আগে আমি ড. ইউনূসকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের পরামর্শ দিয়েছিলাম। পাশাপাশি গ্রামীণব্যাংকের সঙ্গে তার যাতে একটি সম্পর্ক থাকে সেজন্য তাকে ব্যাংকটির আজীবন একটি সম্মানজনক পদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটা গ্রহণ করেননি।”
গ্রামীণব্যাংকের এমডি নিয়েগে সার্চ কমিটি গঠন প্রসঙ্গে পরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “গ্রামীণব্যাংকের আইনে যে সংশোধনী আনা হয়েছে, ছুটির কারণে সেটা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি ও গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। গেজেট প্রকাশের পরপরই সার্চ কমিটি গঠন করা হবে।”
ড. ইউনূস প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, “ড. ইউনূস বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণের প্রবক্তা। তিনি একজন নোবেল বিজয়ী, তাকে নিয়ে আমরা গর্ব বোধ করি। তিনি গ্রামীণব্যাংকের এমডি ছিলেন। ওই ব্যাংকের বিধিমালা তার হাতেই প্রণীত হয়েছে। তার নিজের তৈরি বিধান অনুযায়ীই তিনি ব্যাংকটির এমডি পদে থাকতে পারেন না। কিন্তু এটাকে পাশ কাটিয়ে তিনি এমন একটা বিধান চালুর চেষ্টা চালিয়েছেন যাতে করে তিনি আজীবন গ্রামীণব্যাংকের এমডি পদে থাকতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এটা মেনে নেয়নি।”
প্রসঙ্গক্রমে মন্ত্রী আরো বলেন, “পদত্যাগ করার পর ড. ইউনূস গ্রামীণব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রচারণা চালাতে থাকেন। ফলে প্রথমদিকে তাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছিল, কিন্তু পরে তারা দেখেছে যে সবকিছুই আগের মতো চলছে, সরকার কোনো পরিবর্তন বা হস্তক্ষেপ করছে না। এখন তারা স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।”
গত বছর (২০১১) গ্রামীণব্যাংক সবচেয়ে বেশি ঋণ প্রদান ও আদায় করেছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১২ মে গ্রামীণব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান ড. ইউনূস।
অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক আগেই তাকে গ্রামীণব্যাংকের এমডির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল। এরপর সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে আইনি লড়াইয়ে হারার পর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন গ্রামীণব্যাংকের রূপকার নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৫৪ ঘণ্টা, আগস্ট ২২, ২০১২
এসআর/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com