১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০, শনিবার মে ২৫, ২০১৩ ৪:০৩ পিএম BDST banglanew24
10 Jul 2012   01:48:47 PM   Tuesday BdST
E-mail this

নেতিবাচক ভূমিকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি!


এইচ এম মুর্তুজা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
নেতিবাচক ভূমিকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি!

ঢাকা: পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) পুর্নগঠন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বাজারকে স্থিতিশীল করাতো দূরের কথা উল্টো বিভিন্নভাবে বাজারে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি।

অযাচিত বাজারে হস্তক্ষেপ, আইপিও ইস্যুতে অস্বচ্ছতা ও পরিচালকদের শেয়ার ক্রয়ের সময় না বাড়িয়ে বাজারকে স্থিতিশীলতার পরিবর্তে অস্থিতিশীল করে তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে বাজারকে ইতিবাচক ধারায় ফেরানোর পরিবর্তে নেতিবাচক ধারায় প্রবাহিত করছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এ কারণে বর্তমানে সাধারণ বিনিয়োগকারী, প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা এ কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।

বাজার ধসের পর থেকেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে হর-হামেসাই ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কাছে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার-ক্রয় বিক্রয়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। যা ওই বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বড় ধরনের কোনো ক্রয়াদেশ কিংবা বিক্রির আদেশ দিলেই এ ধরনের তথ্য চাইছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আরো অভিযোগ করে বলেন, সূচকের পতন রোধ করতে শেয়ার কেনার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর এসইসির পক্ষ থেকে টেলিফোনে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। যা বাজারের স্বাভাবিকতাকে নষ্ট করছে।

এসইসি’র সাবকে চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এসইসরি এ ধরনের তৎপরতাকে আত্মঘাতী, বাজার শৃঙ্খলার পরপিন্থী এবং দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যায়তি করেছেন। তিনি বলেন, এসইসির কাজ বিধি অনুযায়ী শেয়ারবাজার পরিচালিত করা। এটা ঠিক  রেখে কখনও প্রয়োজন পড়লে কেবল প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা চাইতে পারে।

এদিকে গত ২৪ এপ্রিল ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেডকে (আইএসএনএল) বিদ্যমান একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়।

কমিশনের একই বৈঠকে তাল্লু স্পিনিং মিলস্ লিমিটেডকে (টিএসএমএল) বিদ্যমান দুইটি শেয়ারের বিপরীতে একটি শেয়ার ছেড়ে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেয়। এ খবরে দুটি প্রতিষ্ঠানেরই ব্যাপক দরবৃদ্ধি পায়।

কিন্তু এর দুই কার্যদিবস পর এসইসি আরেক নোটিফিকেশনের মাধ্যমে রাইট শেয়ারের অনুমোদন দেওয়া দুই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জানায়, কোম্পানি দুটির সব পরিচালককে সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত নোটিফিকেশন এবং পরিচালকদের পৃথকভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত কমিশনের নোটিফিকেশন পরিপালন করতে হবে। অন্যথায় তারা রাইট শেয়ার এর রেকর্ড ডেট এবং চাঁদা গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করতে পারবে না। কিন্তু, রাইট শেয়ারের অনুমোদন দেওয়ার সময় এসব বিষয় স্পষ্ট করেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এতে প্রতিষ্ঠান দু’টির শেয়ার দরে ব্যাপকভাবে কমে যায়। যা কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

অন্যদিকে এসইসি নিজেকে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এ কারণে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) পুঁজিবাজার বিষয়ক এক আলোচনা সভায় বর্তমান কমিশনকে অর্থমন্ত্রণালয়ের মুখাপেক্ষি হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। আর মুদ্রাবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকে পুঁজিবাজারের তাৎপর্য বোঝাতে পুঁজিবাজার বান্ধব মুদ্রানীতি গ্রহণে লবিং করেও সফল হয়নি।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ এসইসি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পুঁজিবাজারের গুরুত্ব সঠিকভাবে উপস্থাপন না করায় বাংলাদেশ ব্যাংক নমনীয় ভূমিকা পালন করছে না। এ কারণে সমর্থ্য থাকলেও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে যাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ মাত্র ২ শতাংশ।

এছাড়া বর্তমান কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন গত বছরের ১৫ মে এসইসিতে যোগদানের সময় বলেছিলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে এসইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

সে সময় তিনি আরো বলেন, সব স্টেক হোল্ডারের অংশগ্রহণে পুঁজিবাজারকে এমনভাবে তৈরি করা হবে, যেন দেশের অর্থনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে নবগঠিত কমিশনের মেয়াদকালে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার পরিবর্তে সম্প্রতি বেশ কয়েকবার বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে। ২০১১ সালের মে মাসে কমিশন পুর্নগঠন করে সরকার। তখন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ছিল ৫৭৮৮ পয়েন্টে, লেনদেন ৫৬৩ কোটি টাকা এবং বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার ৫২০ কোটি টাকা।

কিন্তু, এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সূচক তখনকার তুলনায় ১৫শ’ পয়েন্টের বেশি কমে ৪২৭২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। লেনদেন ৪০০ কোটি টাকা কমে ১১৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। আর বাজার মূলধন ২৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি কমে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকায় নেমে গিয়েছে।

এতে বাজার পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে স্থিতিশীল করা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে কমিশন তা সহজেই অনুমেয়।

এদিকে সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিষয়ে আগে থেকেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু, তা উপেক্ষা করে কোম্পানিটিকে আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেয় এসইসি। এর পর এসইসির কাছে উপস্থাপিত অভিযোগ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতে প্রকাশ পাওয়ার পর কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপক ও পদ্মা ইসলামী লাইফকে শতর্ক করে কমিশন।

কিন্তু আইপিও অনুমোদন দেওয়ার আগে অভিযোগের সত্যতা যাচায়ের মাধ্যমে কেন কোম্পানির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা তা অনেক বিনিয়োগকারীর কাছেই দূর্বোধ্য।

আর সর্বশেষ বাজারে শেয়ারের চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের জন্য ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ারধারণ বাধ্যতামূলক করে ২১ নভেম্বর। এতে অনেকটা বাধ্য হয়েই শেয়ার ক্রয় শুরু করে পরিচালকেরা। এর প্রভাবে অনেকটা স্থিতিশীল হতে শুরু করে পুঁজিবাজার। যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাও সৃষ্টি করে।

ন্যূনতম শেয়ার ধারনের নির্দেশনা ও এসইসির যে ক্ষমতার মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয় সেটি চ্যালেঞ্চ করে অনেক পরিচালক উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। যা আদালত নাকচ করে দেয় এবং সময় বাড়ানোর বিষয়টি এসইসিকে সুরাহা করার নির্দেশনা প্রদান করে আদালত।

কিন্তু, ব্যাপক সংখ্যাক পরিচালকের আবেদন সত্ত্বেও সময় বাড়ায়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে ওই পরিচালকেরা পদ হারান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাজার ফের অস্থিতিশীল হতে শুরু করে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরিচালকদের শেয়ার ক্রয়ের সময়সীমা বৃদ্ধি করলে যে কারণে ন্যূনতম শেয়ারধারণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল তা বাস্তবায়িত হতো অর্থাৎ বাজার স্থিতিশীল হতো। কিন্তু, পরিচালকদের সময় বৃদ্ধির আবেদন নাকচ করে দেওয়ার ফলে বাজারে ফের ক্রেতা সংকট তৈরি হয় এবং বিনিয়োগকারীরা আবারও হতাশ হয়ে পড়েন। যা বাজারকে ফের অস্থিতিশীল করেছে।

অথচ এসইসি সময় বাড়ালে হয়ত বাজারে স্থিতিশীলতা বাজায় থাকতো। এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য এসইসির দূরদর্শীতার অভাবকেই দায়ী করেন তারা।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৭ ঘণ্টা, জুলাই ১০, ২০১২
ইচএমএম/সম্পাদনা: নজরুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
VISA Center Inc
Holy Hajj BD
RehabHousing.com

অর্থনীতি

8877
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান