 |
ঢাকা: সরকারের ঘোষিত সাম্প্রতিক সংস্কার কর্মসূচির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিরোধী দলগুলোর ডাকা সাধারণ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে সমগ্র ভারত জুড়ে।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, স্থানীয় খুচরা বাজারে বিদেশী বিনিয়োগের অনুমতি দানের প্রতিবাদে ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট এনডিএ এবং বামদলগুলোসহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দল এ হরতালের ডাক দেয়।
হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন রাজ্যে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা রাস্তায় নেমে আসে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম। তবে অনেক রাজ্যেই হরতালের প্রভাব পড়েছে আংশিক।
হরতালের প্রথম প্রহরেই ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে রেল পথ অবরোধ করে বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকে দেয় পিকেটাররা। এছাড়া জম্মু, আসামের গৌহাটি এবং ভূবনেশ্বরেও বিক্ষোভ ও পিকেটিং করেছে হরতাল সমর্থকরা।
এদিকে বিরোধী দলের ডাকা এ হরতালে সমর্থন দিচ্ছে সারা ভারতের ৫ কোটি খুচরা ব্যবসায়ী এবং ২৫ হাজার বাণিজ্যিক সংগঠন। গত সপ্তাহে সরকারের অনুমোদন করা ‘ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট’ বা এফডিআই নীতিমালা বাতিলের দাবিতে আরও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ভারতের খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো। মূলত স্থানীয় খুচরা বাজারে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে তারা।
হরতালের কারণে সারা ভারতেই জীবন যাত্রা আংশিক ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। অনেক রাজ্যেই বিদ্যালয়, অফিস-আদালত ও হাট বাজার বন্ধ রয়েছে। তবে হিন্দুদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব গনেশ চতুর্থী পালন উপলক্ষে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েনি।
দিল্লিতে পাবলিক বাসগুলো কম চলাচল করলেও মেটো ট্রেন সময়মতই চলাচল করেছে বলে জানা গেছে। তবে বেশিরভাগ বিদ্যালয় এবং অধিকাংশ বাজার বন্ধ আছে।
শারদ যাদব, মুরলি মনাহোর যোশি, প্রকাশ কারাত এবং এবি বর্ধনসহ শীর্ষ বিরোধী নেতারা দিনের শেষে দিল্লির যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোলকাতায় ট্রেন চলাচল সকালের দিকে বিঘিœত হলেও এখন স্বাভাবিকভাবেই চলছে বলে জানা গেছে। তবে দোকান পাট, বিদ্যালয় ও কলেজগুলোর অধিকাংশই বন্ধ রয়েছে। নগরীতে অল্প বিস্তর পাবলিক বাস দেখা গেলেও যান চলাচল স্বাভাবিকের থেকে কম বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
দক্ষিণ ভারতের কর্নাটকে হরতালের প্রভাব আংশিকভাবে পড়েছে। ট্রেন সময়মত চললেও পাবলিক বাস খুব একটা চলছে না। তবে সেখানে রাজপথে কোনো বিক্ষোভ হয়নি বলে জানা গেছে।
তামিল নাড়ুতে পাবলিক বাস সার্ভিস অনেকটাই স্বাভাবিক। বেশিরভাগ স্কুল কলেজও খোলা। কেন্দ্রের ইউপিএ সরকারের সহযোগী হলেও রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে অবশ্য হরতালে সমর্থন দিচ্ছে।
মুম্বাইসহ পুরো মহারাষ্ট্রে হরতালের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। গনেশ উৎসব চলার কারণে বিজেপি, শিবসেনা এবং অন্যান্য বিরোধী দল এ রাজ্যে হরতালের পক্ষে পিকেটিং না করার ঘোষণা দিয়েছে। মুম্বাইয়ে জীবন যাত্রা অন্যান্য দিনের মতই স্বাভাবিকভাবে চলছে।
উল্লেখ্য ভারতের মন্থর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ভারত সরকার বেশ কিছু সংস্কার কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে ভারতের বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে খুচরা বাজারে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ওয়ালমার্টের মত বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের স্থানীয় বাজারে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে।
তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি স্থানীয় বাজারে আন্তর্জাতিক সুপারশপগুলোর আগমন ভারতের লাখ লাখ ক্ষুদ্র খুচরা ব্যবসায়ীকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বাংলাদেশ সময়:১২০৯ ঘণ্টা,সেপ্টেম্বর ২০, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম,নিউজরুম এডিটর