 |
ঢাকা: পদ্মাসেতুর পরামর্শক নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক যোগাযোগ এবং বর্তমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে সেগুন বাগিচার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বৃহস্পতিবার বাংলানিউজকে বিষয়টি জানায়।
সূত্র জানায়, আবুল হাসান যেখানে বা যে স্থানে অনুসন্ধান টিমের সঙ্গে বসতে চাইবেন সেখানেই অনুসন্ধান টিম তার সঙ্গে বসবে। এ ব্যাপারে গোপনীয়তাও রক্ষা করা হবে।
এ তথ্যের সূত্র ধরে যোগাযোগ করা হলে দুদকের এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা `মন্ত্রীকে দুদক কার্যালয়ে ডাকা হবে না` উল্লেখ করে বাংলানিউজকে বলেন, `মন্ত্রীর (আবুল হোসেন) সঙ্গে কথা বলে তার সুবিধামতো স্থানে দুদকের অনুসন্ধান টিম বসবে। পদ্মাসেতুর পরামর্শক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে চাইবে কমিশন।`
এদিকে দুদকের পরিচালক শাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার বাংলানিউজকে বলেন, ``এ বিষয়ে কমিশনের বৈঠকে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি তাকে (মন্ত্রী আবুল হোসেন) কোথায় কখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।``
আবুল হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ``পদ্মাসেতুর পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি অনিয়মের তদন্তে দুদকের যে অনুসন্ধান কমিটি কাজ করছে সে কমিটি যদি মনে করে মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন তাহলে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। সে জিজ্ঞাসাবাদ যে দুদকেই করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। অনুসন্ধান কর্মকর্তারা যে কোনো জায়গায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।``
পদ্মাসেতুর অর্থ জোগানদাতা বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ১১ অক্টোবর তাদের অর্থায়ন স্থগিত করে। এ নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিতর্কের মুখে পড়েন তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন।
বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ, সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে প্রাক-যোগ্যতা যাচাই প্রক্রিয়ায় এবং পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থাকতে পারে। দুর্নীতির সঙ্গে সৈয়দ আবুল হোসেন ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাঁকো ইন্টারন্যাশনালের সম্পৃক্ততার কথা বিশ্বব্যাংকের অভিযোগে তুলে ধরা হয়। সাবেক মন্ত্রী আবুল হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সরকারের পক্ষ থেকেও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক দেখা দিলে তা খতিয়ে দেখতে দুদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর পদ্মাসেতুর দুর্নীতির ব্যাপারে পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করে দুদক।
উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলিকে প্রধান করে পদ্মাসেতু তৈরিতে ঠিকাদার নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়। আর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলমকে। গত ২ ফেব্রুয়ারি দুদক জানায়, মূল সেতু নির্মাণে প্রাকযোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে কোনো রকম দুর্নীতি হয়নি। তবে পরামর্শক নিয়োগে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত চলছে। ফলে সৈয়দ আবুল হোসেনও তখন অব্যাহতি পেয়ে যান। তখন দুদক ঠিকাদার নিয়োগে আবুল হোসেনকে নির্দোষ বলায় দুদকের তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তোলেন।
তদন্ত কমিটি সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে করা অভিযোগের ভিত্তিতে আবার তদন্ত শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ১৪ জুন দুদক সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আর গত মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে জাতীয় সংসদের হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের ভাই নিক্সন চৌধুরীকে।
পদ্মাসেতু প্রকল্পে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মূল্যায়ন কমিটি পরামর্শক হিসেবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম সুপারিশ করেছিল।
এর প্রথমটি ছিল এসএনসি-লাভালিন। অন্যগুলো হলো- যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান হালক্রো গ্রুপ ইউকে, নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান একম অ্যান্ড এজেডএল, জাপানের ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট কোম্পানি লিমিটেড এবং যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের জয়েন্ট ভেনচার কোম্পানি হাই পয়েন্ট রেলেন্ড।
এর মধ্যে এসএনসি-লাভালিনকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে অনুমোদনের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। এরপরই এ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলার সহায়তা স্থগিত করে দেয়। এ নিয়ে কানাডা পুলিশ এখনো তদন্ত করছে। আর তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক এসএনসি-লাভালিনকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বাংলানিউজকে জানান, এই অনুসন্ধানের বিষয়ে এ মাসের শেষে অথবা আগামী মাসের প্রথম দিকে কানাডীয় পুলিশের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ পাবে দুদক।
বাংলাদেশ সময়: ১৫২০ ঘণ্টা, জুন ২১, ২০১২
এডিএ/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর