ঢাকা: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) কারসাজি মোকাবেলায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ১০টি ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে সংস্থাটি।
সিকিউরিটিজ আইন সংঘের অভিযোগে এসব ব্রোকারেজ হাউজেক জরিমানা করা হয় বলেও এসইসি সূত্রে জানা গেছে।
আইন অমান্য করায় জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হল- লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, এবি সিকিউরিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ, নভেলি সিকিউরিটিজ, সালটা ক্যাপিটাল, অ্যাসোসিয়েট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ, জিএমএফ সিকিউরিটিজ, রিলায়েন্স সিকিউরিটিজ কলসালট্যান্ট ও পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ।
যে সব অভিযোগের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এর মধ্যে রয়েছে- একই কোড ব্যবহার করে লেনদেন করা, রেকর্ড ডেটের আগে শেয়ার নিজেদের নামে হস্তান্তর, অ্যাগ্রেসিভ শেয়ার সেল করে মুনাফা হাতিয়ে নেওয়া প্রভৃতি।
জানা গেছে, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ ও আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ একটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজি করেছে। এসব সিকিউরিটিজ হাউজের মাধ্যমে আলাদা আলাদা কোম্পানির শেয়ারদর কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হয়েছে।
একই ধরনের কারসাজির সঙ্গে জড়িত জিএমএফ সিকিউরিটিজ, সালটা ক্যাপিটাল, অ্যাসোসিয়েট ক্যাপিটাল ও রিলায়েন্স সিকিউরিটিজ।
এসইসির নির্দেশনা সত্বেও এগ্রেসিভ সেল করে গ্রাহকদের শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবি সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ডিএসই প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে। এছাড়া, পিএইচপি সিকিউরিটিজ দুইটি কোডের মধ্যে আইন ভঙ্গ করে শেয়ার লেনদেন করেছে।
এসইসির তথ্যমতে, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (স্টক ব্রোকার), ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড (স্টক ব্রোকার), ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক লিমিটেড ও পিএফআই সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জরিমানা করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে আবার মওকুফও করে দেয়।
অন্যদিকে, গত এপ্রিলে ট্রেন্ডসেট সিকিউরিটিজের অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রাহকের শেয়ার উধাও হওয়ার ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। গ্রাহকের শেয়ার বিক্রি করে নিজেদের নামে নিয়ে গিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসইসি কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, “আইন অমান্য করার কারণে এসইসি এরই মধ্যে বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, যা আমাদের নিয়মিত কাজ। ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।”
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন অমান্য করার শাস্তি একলাখ কিংবা দুইলাখ টাকা হওয়া উচিত নয়। অনিয়মের মাধ্যমে যে পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে, সে পরিমাণ বা তার বেশি অর্থ জরিমানা না করলে এসব কার্যক্রম থামানো যাবে না। কারণ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে অনিয়ম চলতেই থাকবে।
বাংলাদেশ সময়: ০৩২৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৮, ২০১২
এইচএমএম/সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর