বাগেরহাট: বাগেরহাটের শরণখোলা ও মোল্লাহাটে পৃথক ২টি হত্যা মামলায় ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে এবং জেলা ও অতিরিক্ত দায়রা জজের দ্বিতীয় আদালত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে প্রতিপক্ষ ৫ জনকে এ দণ্ডাদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ছোট নলবুনিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ মাঝি ২০০৪ সালের ২৯ মে তার স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে পারিবারিক কলহের জের ধরে পিটিয়ে হত্যার পর গলায় রশি দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার চালান।
পরে শরণখোলা থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ময়না তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে শরণখোলা থানার এসআই জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন।
বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এম আতোয়ার রহমান সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযুক্ত আব্দুল মজিদকে যাবজজীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাভোগের নির্দেশ দেন।
অপরদিকে, মোল্লাহাট উপজেলার কুলিয়া গ্রামের মান্নান মোল্লার ছেলে নজরুল ইসলাম টিটো ২০১০ সালের ৫ এপ্রিল সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা কুপিয়ে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় পরের দিন নিহতের ভাই জিয়াউর রহমান মোল্লা বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে পুলিশ ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
বৃহস্পতিবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালতের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিচারক মো. রবিউল ইসলাম ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ ও একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট সীতা রানী দেবনাথ ও আলী আকবর।
বাংলাদেশ সময়: ২২১৫ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১২
সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর