 |
ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইবনে সিনা কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) নিয়ে কারসাজির অভিযোগ তুলেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
ইবনে সিনার নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সম্পর্কিত ডিএসই’র এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ডিএসই’র ওই প্রতিবেদনে ‘বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত বা বিভ্রান্ত করতে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে’ বলে মন্তব্য করে বলা হয়েছে, কোম্পানির দেওয়া আর্থিক প্রতিবেদনে বিনিয়োগ ও অন্যান্য আয়ের অতিমূল্যায়ণ করা হয়েছে। এমন কি ইপিএস-ও বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল তথ্য চলে যাবে।
এদিকে ইবনে সিনা’র নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে যেসব অনিয়ম পাওয়া গেছে সেগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে এরইমধ্যেই ওই কোম্পানির সচিব বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে ডিএসই। উল্লেখিত বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে ইবনে সিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নেওয়া হবে বলে ডিএসই সূত্র জানায়।
ডিএসই’র পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ইবনে সিনা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করতে অর্থিক প্রতিবেদনে ভুল তথ্য সরবরাহ করেছে। গত ৩০ জুন ২০১২ পর্যন্ত কোম্পানির অর্থিক প্রতিবেদনে শেয়ার প্রতি আয়সহ (ইপিএস) কয়েকটি বিষয়ে কারসাজি করেছে কোম্পানিটি। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে ইপিএস বেশি দেখানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে উল্লেখিত অর্থবছরে কোম্পানি ২ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার ২৭২ টাকার স্থায়ী সম্পদ (ফিক্সড অ্যাসেট) কিনেছে। কিন্তু ওইসব অতিরিক্ত স্থায়ী সম্পদের ওপর কোনও মূল্যাপকর্ষণ ধার্য করা হয়নি।
এসব অতিরিক্ত স্থায়ী সম্পদের ওপর কোনও মূল্যাপকর্ষণ ধার্য না করায় কোম্পানির মুনাফা এবং ইপিএস-এ অতিরঞ্জন করা হয়েছে। এটা বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করবে।
এছাড়া কোম্পানিটি শেয়ার বিনিয়োগের ভুল তথ্য দিয়ে ইপিএস বাড়িয়েছে বলেও ডিএসই’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইবনে নিসার আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কোম্পানিটি আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। যা ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক শেয়ার লভ্যাংশ গ্রহণের মাধ্যমে এসেছে।
ডিএসই’র চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, শেয়ার লভ্যাংশ গ্রহণ করায় বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ে না, শুধু শেয়ার সংখ্যা বাড়ে মাত্র। তাছাড়া লভ্যাংশ পেলে তা বিক্রি না করা পর্যন্ত শেয়ারহোল্ডারদের আয় বাড়ে না।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ৩০, ২০১২
এসএনএইচ / এসআর/ জেডএম