৫ আষাঢ় ১৪২০, বুধবার জুন ১৯, ২০১৩ ১১:১৯ পিএম BDST banglanew24
28 Jul 2012   09:08:10 PM   Saturday BdST
E-mail this

দু’টি দলেই যুক্তরাষ্ট্রের সংগঠকরা অবহেলিত !


অতিথি করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
দু’টি দলেই যুক্তরাষ্ট্রের সংগঠকরা অবহেলিত !

নিউইয়র্ক  : রাজনৈতিক দল নিবন্ধিকরণ রীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলেরই বিদেশ শাখা অবৈধ। এতদসত্বেও বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলসহ অনেক দলেরই বিদেশে শাখা সক্রিয় রয়েছে এবং দুই দলের প্রধান শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়ার অনুমোদনে নতুন শাখাও হয়েছে।

শুধু তাই নয়-  ঢাকডোল পিটিয়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে শেখ হাসিনা এবং বিএনপির সম্মেলনে বেগম জিয়া অংশ নিয়েছেন। অর্থাৎ নিজেদের তৈরী বিধি নিজেরই লঙঘন করেছেন। বিদেশ শাখা সক্রিয় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে ১/১১ পরবর্তী পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য শাখা আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভূমিকা অস্বীকারের উপায় নেই।

দুই নেত্রীর কারামুক্তিই শুধু নয়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্বহালেও বহির্বিশ্বের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বিশাল প্রভাব ছিল তাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা অসংখ্যবার উল্লেখও করেছেন। যদিও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র অথবা যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এ পদটি দেয়া হয়েছে চট্টগ্রামের জনৈক ব্যক্তিকে।

বিএনপি অবশ্য ১/১১ পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলহাজ্  আব্দুল লতিফ সম্রাট এবং সর্বশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে যুক্তরাজ্যের আলহাজ্ কমরউদ্দিনকে আন্তর্জাতিক সম্পাদক নিয়োগ করেছিল। আলহাজ্ কমরউদ্দিনের ইন্তেকালের পর শূন্য পদটি এখনও পূরণ হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে ৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে। এছাড়া তারেক রহমানের নামে সৃষ্ট ‘তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটি’র কার্যক্রমও চলছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সমান্তরাল হিসেবে। যুক্তরাজ্যেও আলহাজ্ কমরউদ্দিন মারা যাবার পর সৃষ্ট অনৈক্য এখন পর্যন্ত দূর হয়নি। বিএনপির অবিসংবাদিত নেতা তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করা সত্বেও দলের অনৈক্য জিইয়ে রয়েছে। একইভাবে সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতি এবং অনুমোদনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি হবার মাসখানেকের মধ্যেই পাল্টা সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে ‘নর্থ আমেরিকা আওয়ামী লীগ’ নামে।

নর্থ আমেরিকা আওয়ামী লীগ কোনভাবেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আর্শীবাদ অথবা অনুমোদন পাবে না বলে সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়ে দিয়েছেন। তবুও তারা সক্রিয় রয়েছেন এবং সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নিউইয়র্ক সফরকালে নর্থ আমেরিকা আ’লীগের কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন।

অর্থাৎ শেখ হাসিনার অনুমোদিত কমিটিকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে গঠিত নতুন সংগঠনে মদদ জোগাচ্ছেন তারই মন্ত্রীসভার সদস্যরা। এ ক্ষেত্রে দুয়েকজন মন্ত্রী অবশ্য নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্যে প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধু এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নীতি ও আদর্শ নিয়ে তারাও কাজ করছেন। সুতরাং সেখানে যেতে বাধা কোথায়? মোট কথা, নেতা-কর্মীদের অজান্তেই ‘নর্থ আমেরিকা আ’লীগ  তার কর্মকান্ড নির্দ্বিধায় পরিচালনা করছেন।

বক্তব্য এবং যুক্তি যাই দেখানো হোক, মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বিভ্রান্ত। এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে সচেতন প্রবাসীরা বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক নিয়োগ করা দরকার যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য থেকে।

তাহলে সাংগঠনিক বিভাজন দূর করা সহজ হতে পারে। পাশাপাশি প্রবাসের নেতা-কর্মীরাও উদ্বুদ্ধ হবেন আরো জোরদার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন এবং ক্যাপিটল হিলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন রাজনীতিকদের সঙ্গে কথা বলার যোগ্যতা রয়েছে- ডেমোক্রেটিক পার্টি অথবা রিপাবলিকান পার্টির সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ নিয়েছেন-এমন প্রবাসীকে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক করার দাবি ভেতরে ভেতরে চাঙ্গা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে অথবা রাজধানী ঢাকায় বাস করেন এমন ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক সম্পাদক বানিয়ে সত্যিকারের কোন ফায়দা হচ্ছে বলে কেউই মনে করেন না।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ‘যুবদল’ এবং জাসাস’র আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের নিয়োগ দিয়েছে। একে অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। যুবলীগের  কেন্দ্রীয় কমিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদ রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের জানা নেই।

এ পদে কখনোই প্রবাস থেকে কাউকে অধিষ্ঠিত করা হয়নি। অথচ যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে যুবলীগের শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত বাহিনী রয়েছে। নেই কোন বিভাজন। দলীয় নেতা-নেত্রীদের চরম দুর্দিনে এ দুটি দেশের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভূমিকা বক্তৃতা-বিবৃতিতে প্রশংসিত হলেও সাংগঠনিক ভাবে তাদের স্বীকৃতি প্রদানে কার্যকর পদক্ষেপ গৃহীত না হওয়ায় ক্ষোভের সঞ্চার ঘটছে।

আমেরিকার নেতা-কর্মীরা আশা করছেন, যোগ্যতাসম্পন্নদের মাধ্যমে অচিরেই আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদ পূরণ করা হবে। প্রয়োজনে সৃষ্টি করা হবে একাধিক আন্তর্জাতিক সম্পাদক- যার ফলে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং বেলজিয়ামকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

বাংলাদেশ সময় : ২১০৭ ঘণ্টা, জুলাই ২৮, ২০১২
সম্পাদনা : সুকুমার সরকার, কো-অর্ডিনেশন এডিটর  
Kumar.sarkerbd@gmail.com

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Bookmark and Share
REVE Systems
banglanews24 All Apps
RehabHousing.com

প্রবাসের চিঠি

8877
IIMEJ
Kaspersky Lab - Antivirus Software [ Bangladesh ]
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম | এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

ফোন: +৮৮০ ২ ৮৪০২১৮১, ৮৪০২১৮২ আই.পি. ফোন: +৮৮০-৯৬১২১২০০০০ নিউজ রুম সেল: +৮৮-০১৭২৯০৭৬৯৯৬, ০১৭২৯০৭৬৯৯৯ ফ্যাক্স: +৮৮০ ২ ৮৪০ ২৩৪৬
ইমেইল: news.bn24@gmail.com, editor.banglanews@gmail.com, editor@banglanews24.com    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম    এডিটর-ইন-চিফ: আলমগীর হোসেন

বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ইমেইল করুন    কপিরাইট © 2013 সকল স্বত্ব ® সংরক্ষিত    একটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড প্রতিষ্ঠান