ঢাকা : বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের রূপরেখা প্রতিবেদন প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করে আরো পর্যালোচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাতীয়করণের রূপরেখা নিয়ে আয়োজিত সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফছারুল আমীন।
এর আগে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের রূপরেখা প্রণয়নে গত ২৯ মে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবুল কালাম আজাদকে প্রধান করে এ কমিটি করা হয়।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সভায় জাতীয় করণের জন্য প্রণীত রূপরেখা প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াসহ আরো কিছু দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনার আলোকে আমরা রূপরেখাটি চূড়ান্ত কর করা হবে।”
তিনি জানান, জাতীয়করণের ঘোষণা হয়তো একবারে দেওয়া হবে। তবে আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘‘জাতীয়করণের জন্য এমপিওভুক্ত স্কুলগুলোর তথ্য আমরা পেলেও এমপিওভুক্ত নয়, এমন স্কুলের তথ্য পেতে আমাদের আরো কিছুদিন সময় লাগবে।’’
তিনি বলেন, রূপরেখায় শিক্ষকদের বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রথমে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর তাদের এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর তারা নিয়মিত হবেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রূপরেখায় বলা হয়েছে, কমিউনিটি ও এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়সহ সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত ও স্থায়ী-অস্থায়ী নিবন্ধিত বিদ্যালয় জাতীয়করণের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তবে ২৪ মের পর যেসব বিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে, সেসব প্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসবে না।
এছাড়া শিশুকল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে থাকা বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে জাতীয়করণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রূপরেখায় আরো বলা হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত বিদ্যালয়গুলোকে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণীতে ভাগ করা হবে। এক্ষেত্রে ‘ক’ শ্রেণীতে এমপিওভুক্ত ও স্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত বিদ্যালয়, ‘খ’ শ্রেণীতে এমপিওবহির্ভুত অস্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত বিদ্যালয় এবং বাদ বাকি কমিউনিটি বিদ্যালয়সহ জাতীয়করণের যোগ্য বিবেচিত অন্যান্য বিদ্যালয়কে ‘গ’ শ্রেণীতে রাখা হবে।
এমপিওভুক্ত এবং বেসরকারি প্রাথথিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য গঠিত প্যানেল থেকে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে নিয়োগকৃত শিক্ষকরা এডহক নিয়োগের যোগ্য বিবেচিত হবেন বলে রূপরেখায় বলা হয়েছে।
তবে শৃঙ্খলাজনিত কারণে এমপিও স্থগিত রয়েছে, এমন শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সন্তোষজনক নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এডহক নিয়োগ করা যাবে এবং জাতীয়করণের ক্ষেত্রে যে কোনো বিরোধ ও আপত্তি নিষ্পত্তিতে একটি পৃথক নীতিমালা করতে সুপারিশ করা হয়েছে।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. মোতাহার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সচিব এমএম নিয়াজউদ্দিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২২০০ ঘণ্টা, জুন ২৬, ২০১২
এসএমএ/ সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর