 |
ঢাকা: দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১০ জুন থেকে শুরু হয়েছে অনলাইন ট্রেডিং (লেনদেন)। এ দিন সকালে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন অনলাইন ট্রেডিংয়ের জন্য এমএসএ প্লাস নামে নতুন সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন।
নতুন এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজে উপস্থিত না হয়েও ঘরে বসে ইন্টারনেটে লেনদেন করতে পারবেন।
তবে নতুন এ সফটওয়্যাল চালু করার পর থেকে ব্রোকারেজ হাউজ ও বিনিয়োগকারীদের মাঝে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার অনলাইনের আওতায় আসা একাধিক সিকিউরিটি হাউজ কর্তৃপক্ষ এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
অনলাইনের জটিলতা নিয়ে একেক জন একেক অভিযোগ করেছেন বাংলানিউজের কাছে। তাদের অভিযোগগুলোর মধ্যে, শেয়ার ম্যাচুরিটি না হলেও সেল হচ্ছে, অর্ডার দেওয়ার পর অর্ডার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং সট সেল বন্ধের কথা থাকলেও এখনও এই প্রক্রিয়া সট সেল হচ্ছে, নতুন সফটওয়্যারে ফ্ন্টগুলো ছোট, কালারটা ঠিক নয়, মাঝে মধ্যেই সফটওয়্যার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
র্যাপিড সিকিউরিটিজের অথরাইজার বাংলানিউজকে জানান, নতুন এই সফটওয়ারে একটু সমস্যা হচ্ছে। এই সফটওয়ারে সট সেল হবে না বলা হলেও তা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, শেয়ার ম্যাচুরিটি হওয়ার আগেই শেয়ার সেল হচ্ছে এ জন্য বিনিয়োগকারীরা অর্ডার দিতেও ভয় পাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে ওই হাউজের বিনিয়োগকারী মো. জাফর বলেন, ‘আমি আজ কিছুক্ষণ আগে একটি অর্ডার দিয়েছি কিন্তু এখন তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাবে।’
আহমেদ ইকবাল সিকিউরিটিজের মোরশেদ হাসান বাংলানিউজকে বলেন, ‘নতুন এই সফটওয়্যার অত্যন্ত ধীর গতিতে কাজ করে। এই জন্য লেনদেন কম হচ্ছে। ডিএসই আরো কিছুদিন ট্রেনিং দিয়ে তারপর চালু করলে ভালো হতো।’
একই হাউজের বিনিয়োগকারী আশরাফুল ইসলাম জানান, নতুন এই সফটওয়ার দেখতে হাউজের ট্রেডার এবং বিনিয়োগকারীদের সমস্যা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ এ ধরনের সফটওয়্যার চালু করার আগে বিনিয়োগকারী ও কম্পিউটার অপারেটরদের প্রশিক্ষণ দিলে এতো সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো না।
রোকন নামের এক বিনিয়োগকারী জানান, ডিএসই একটি নতুন সফটওয়্যার চালু করেছে। এতে লেনদেনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে কিছুদিন গেলেই এ সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শাকিল বিজভী সিকিউরিটিজ হাউজের এক বিনিয়োগকারী বলেন, ‘শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতেও আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। কারণ আগে আমরা এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহারে অভ্যাস্ত নই।’
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, আগে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে যে সময় লাগত এখন তার চেয়ে বেশি সময় লাগছে। এছাড়া অনেক ব্রোকারেজ হাউজে সফটওয়্যারটি ধীর গতিতে কাজ করছে বলেও তাদের অভিযোগ।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, এমএসএ পাস সফটওয়্যারে নিটিং করার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ আজ কোনো শেয়ার সেল দিয়ে টাকা বিও একাউন্টে জমা না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ের সুযোগ থাকছে না। যে কারণে লেনদেন কম হচ্ছে।
নতুন এ সফটওয়ার সমস্যাগুলো সম্পর্কে ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা খায়রুজ্জামান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলানিউজকে বলেন, এমএসএ পাস চালুর ফলে ডিএসইতে নতুন যুগের সুচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। তবে সাময়িক যে সমস্যা হচ্ছে তা সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে অচিরেই এটি ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, কিছু সমস্যা মধ্যে বিশেষ করে রিফ্রেশ মেন্টের টিউনিং করতে মাঝে মধ্যে সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় অর্ডার দেওয়া পর কনফারমেশনটা দেখাচ্ছেনা। এতে করে বিনিয়োগকারীদেও মধ্যে কিছুটা হলেও উদবেগ দেখা দিতে পাওে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, আমরা বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করেছি। এগুলো নিয়ে চেন্নাইতে টেস্ট চলছে এবং তাদের তিনজন ইঞ্জিনিয়ার আমাদেও এখানে রয়েছেন সার্বনিক তদারকি করছেন। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে এ সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
খায়রুজ্জামান বলেন, শনিবার আমরা সকল ব্রোকারেজ হাউজে এই টেস্ট চালাবো। রোববারের মধ্যে এটি ঠিক হবে বলে তিনি জানান। এসময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছরের অভ্যাসটা পরির্বতন করতে কিছুটা সময় দরকার বলে তিনি জানান।
ফ্রন্ট সর্ম্পকে তিনি বলেন, আগে আমরা মক করেছি তখন কেউ সমস্যা মনে করেনি। তবে এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে আমরা আশা করছি এটিও ঠিক হয়ে যাবে।
এমএসএ পাস সংযোজনের ফলে বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ের সুবিধা পাচ্ছেন এবং এ েেত্র নিজেরাই নিজেদের নিয়ন্ত্রক হতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।
ইতিমধ্যে ডিএসই‘র সদস্যভুক্ত যেসব হাউজে অনলাইন ট্রেডিং করা যাচ্ছে সেগুলো হলো- অ্যাপেক্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, রয়েল ক্যাপিটাল লি., ভিশন ক্যাপিটল ম্যানেজমেন্ট লি., রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিস লি., হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটি লি., এবি অ্যান্ড কোম্পানি লি., ইজিসি সিকিউরিটিজ লি., আইডিএলসি সিকিউরিটিজ লি., ফার্স্ট ক্যাপিটল সিকিউরিটিজ লি., হ্যাক সিকিউরিটিজ লি., মাল্টি সিকিউরিজি অ্যান্ড সার্ভিস লি., সালতা ক্যাপিটাল লি., জামাল আহমেদ সিকিউরিজি লি., সিএমএসএল সিকিউরিটিজ লি., ড্রাগন সিকিউরিটিজ লি., আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লি., হারফুন সিকিউরিটিজ লি., মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লি., শাকিল রিজভী সিকিউরিটিজ লি., মনা ফাইন্যান্সিশিয়াল কনসালটেন্সি অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লি., গোবাল সিকিউরিটিজ লি., ইমিনেন্ট সিকিউরিটিজ লি. ডিবিএল সিকিউরিটিজ লি. পার্কওয়ে সিকিউরিটিজ লি., মাইকা সিকিউরিটিজ লি., নেক্সাস সিকিউরিটিজ লি., ইউনাইটেড ফিন্যান্সিশিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি লি., পিএইচপি স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লি. এবং আইআইডিএফসি সিকিউরিটি লি।
উলেখ্য, গত ২ এপ্রিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এমএসএ পাস গো লাইভ প্রোগ্রাম চালু করার জন্য ১০ সপ্তাহের সময় বেঁধে দেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। তবে অমনিবাস জটিলতা নিরসনে মার্চেন্ট ব্যাংককে অপশনাল হিসেবে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ সময়: ২২১৫ ঘণ্টা, জুন ১৫ , ২০১২
এসএমএকে/সম্পাদনা: আহমেদ জুয়েল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর