 |
| ছবি: আশিক/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: পদ্মাসেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করায় বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার।
সোমবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিষদ আয়োজিত ‘আওয়ামী দু:শাসন, পদ্মাসেতুর দুর্নীতি, আগামী নির্বাচন ও জনগণের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
“বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হবে” মন্তব্য করে এমকে আনোয়ার প্রশ্ন তোলেন “নিজেদের অর্থায়নে যদি পদ্মাসেতু করা সম্ভব হয়ে থাকে তাহলে গত চার বছর বসে রইলেন কেন? কেন পদ্মাসেতুর কাজ শুরু করেন নি?”
“টাকা আত্মসাতের জন্যই কি এই অপেক্ষা ছিলো” বলে মন্তব্য করে তিনি আক্ষেপ করেন, “এখন টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আর করা যাচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কটাও চলে গেলো।”
‘পদ্মাসেতুর দুর্নীতি তদন্তে আপনাদের এতো আপত্তি কেন?” --প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ প্রশ্নের জবাব জানতে চেয়ে তিনি আরও প্রশ্ন করেন, “কেন সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরাচ্ছেন না, সব ফাঁস করে দেবে বলে? আপনার পরিবারে সদস্যরা দুর্নীতিতে জড়িত না হলে সম্পদের হিসাব দিতে সমস্যা কোথায়?”
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে এমকে আনোয়ার আরও বলেন, “সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বিরোধী দলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। নিজেদের সাফল্য তুলে ধরতে অনেক মিথ্যাচার করেন। গতকালও সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সেটাই করেছেন।”
এ সময় পদ্মাসেতুতে অর্থায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের যে বন্ড ছাড়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন তারও সমালোচনা করেছেন এমকে আনোয়ার।
“বাংলাদেশ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে কথা বললে নাকি রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে। কিন্তু এখন হাজার হাজার মানুষ এ নিয়ে কথা বলছে।”
“দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচন কোনোভাবেই হবে না” বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে এমকে আনোয়ার আরও বলেন, ‘‘জনগণ এ নির্বাচন কোনভাবেই মেনে নেবে না। প্রয়োজনে আর একটা আন্দোলন হবে।”
আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা মেজর (অব.) এমএ মেহবুব রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি আবু নাসের মু. রহমতুল্লাহ, মহিলা দলের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ডা. আরিফা জেসমিন নাহিন প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৩ ঘণ্টা, জুলাই ৯, ২০১২
এসকেএস/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
jewel_mazhar@yahoo.com