 |
বাউফল (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফলে মঙ্গলবার সকালে জনরোষের মুখে পালিয়ে বাঁচলেন বিএনপির সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তিনি ঢাকা থেকে বাউফলের ধুলিয়ার মঠবাড়িয়া গ্রামের বাড়িতে এসে জনরোষের মুখে পড়েন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে ঘুষ, নিয়োগ বাণিজ্য, সাংবাদিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপকর্মের হোতা ছিলেন সাবেক এই এমপি।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এলাকা থেকে পালিয়ে যান তিনি। এর পর মঙ্গলবার সকালে তিনি বাড়ি আসেন।
জানা গেছে, সাবেক এই এমপি মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তার বাড়ি থেকে বের হয়ে ধুলিয়া কলেজিয়েট স্কুলের কাছে আসেন।
এ খবর মুহূর্তের মধ্যে এলাকার ছড়িয়ে পড়লে কয়েকশ মানুষ ওই স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে তাকে ধাওয়া দিলে তিনি দৌঁড়ে ওই স্কুলের একটি রুমে গিয়ে আশ্রয় নেন।
এসময় এলাকার লোকজন স্কুলটি ঘেরাও করে অশ্লীল ভাষায় তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন ।এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সাবেক এই এমপি পুলিশের সহায়তায় জনরোষের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচেন।
উল্লেখ্য, শহিদুল আলম তালুকদার এমপি থাকাকালীন এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শহিদুল আলম তালুকদারের নিপীড়ন-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে সেসময় অনেককে এলাকা ছেড়ে পালাতে হয়। তার আচরণে অনেক মানুষের ঘর ভাঙে।
নানা অপর্কম করে এলাকায় বিতর্কিত হয়ে ওঠেন তিনি। এমনকী নিজহাতে সাংবাদিক ও থানার ওসিকে পিটিয়ে সারাদেশে সমালোচিত হয়ে ওঠেন বিএনপির এই সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার।
সাংবাদিক পেটানোর কারণে তিনি বিশ্বব্যাপী কালো তালিকাভুক্ত হন।
তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ফুটপাতের টোকাই থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও। বিএনপি সরকারের সময় তিনি নিয়োগ বাণিজ্য, উন্নয়ন কাজে কমিশন, টিআর, কাবিখার চাল ভাগাভাগি ও টেন্ডার বাণিজ্য করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে নিজ দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নামমাত্র ভোট পেয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
বাংলাদেশ সময়: ২২৪৫ ঘণ্টা, আগস্ট ২৮, ২০১২
প্রতিবেদন: মন্জুর মোর্শেদ, সম্পাদনা: আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর