‘পাখি উড়ে যায়, পালক পড়ে রয়’। অভিনয়গুরু হুমায়ুন ফরীদি নেই, রয়ে গেছে তার স্মৃতি। মৃত্যুর পর এই তুখোড় অভিনেতার প্রথম জন্মদিন আজ ২৯ মে মঙ্গলবার। এই দিনে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গঠন করা ‘হুমায়ুন ফরীদি মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ যাত্রা শুরু করেছে।
এক বছর আগে ষাট বছরে পদার্পন করা হুমায়ুন ফরীদির জন্মদিন পালন করা হয়েছিল বেশ ঘটা করে। ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে বন্ধু ও সতীর্থ শিল্পীদের আয়োজনে ‘বালাই ষাট’ নামের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বন্ধু আফজাল হোসেন জানতে চেয়েছিলেন ফরীদির কাছে, ‘জন্মদিনের অনুভূতি?’
অনুষ্ঠানে লজ্জিত ভঙ্গিতে বসে থাকা হুমায়ুন ফরীদি প্রথমে বলেছিলেন, ‘এই মনিহার আমায় সাজে ...’। ব্যাস, এইটুকু বলেই কেটে পড়তে চাইলেন। আফজাল হোসেন ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। চেপে ধরলেন ফরীদিকে, ‘এবার তোমার কাছে জীবনের সংজ্ঞা জানতে চাই’ ?
এবার জড়তা কাটিয়ে ফরীদি বলে ওঠলেন, ‘জীবন মানে হলো ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া। প্রতিটি জন্মদিন আমাকে জানিয়ে দেয়, মৃত্যুর দিকে এক পা এগিয়ে গেলাম’।
সেটাই ছিল তার জীবিত অবস্থায় পালন করা শেষ জন্মদিন। হুমায়ূন ফরীদি কী জানতে পেরেছিলেন, পরের জন্মদিন আসার আগেই মৃত্যু তাকে ছিনিয়ে নেবে?
চলতি বছরের ১৩ ফেব্র“য়ারি অভিনয়গুরু হুমায়ুন ফরীদির মৃত্যুর পর এটাই প্রথম জন্মদিন। প্রয়াত অভিনেতার একমাত্র মেয়ে দেবযানীর উদ্যোগে গড়ে তোলা ‘হুমায়ুন ফরীদি মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এই দিন যাত্রা শুরু করলো। এই ট্রাস্টের আহ্বায়ক করা হয়েছে সঙ্গীতশিল্পী প্রিতম আহমেদকে। এতে হুমায়ুন ফরীদির কন্যা দেবযানীসহ আরো আছেন তার স্বামী সাŸীর আহমেদ, নাট্যনির্মাতা আশরাফুল আলম রিপন, অভিনেতা শাহেদ আলীসহ আরও অনেকে।
হুমায়ূন ফরীদির কন্যা দেবযানী ট্রাস্ট সম্পর্কে বাংলানিউজকে বলেন, বাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হলো, তাকে নিয়ে একটি বই বের করা। শিল্পী ও ব্যক্তি জীবনে বাবা অসংখ্য মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। তাকে ঘিরে অনেকের মনেই রয়েছে বহু স্মৃতি-গল্প আর ঘটনা। আমরা সেগুলো একত্রিত করে বাবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে একটি বই বের করার পরিকল্পনা করেছি।
হুমায়ুন ফরীদি মেমোরিয়াল ট্রাস্টের আহ্বায়ক প্রতীম জানলেন, ট্রাস্টের কার্যক্রম এখন প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে হুমায়ুন ফরীদির আত্মীয়-বন্ধু-স্বজনদের এতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। সবাইকে নিয়ে শিগগিরই মূল কমিটি গঠন করা হবে। ট্রাস্টের কাজ হলো হুমায়ুন ফরীদির স্মৃতি রক্ষা। প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে হুমায়ুন ফরীদিকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক লেখা আহ্বান করা হয়েছে। সব লেখা সংকলিত করে বই আকারে প্রকাশ করা হবে আগামী বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি সালে হুমায়ুন ফরীদির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে। এ জন্য সবার কাছে লেখা আহ্বান করা হয়েছে।
প্রয়াত অভিনেতার জন্মদিনে হুমায়ূন ফরীদি মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে স্মৃতিচারণমূলক লেখা গ্রহণ শুরু করা হয়েছে। অভিনয়গুরু হুমায়ূন ফরীদির ভক্ত-বন্ধু-শুভানুধ্যায়ীরা লেখা পাঠাতে পারবেন নিচের মেইলে Ñ
pritom.ahmed@gmail.com
sabir_18@yahoo.com
এক নজরে হুমায়ূন ফরীদি
ডাক নাম : সম্রাট/ পাগলা জন্ম তারিখ : ২৯ মে ১৯৫২ জন্ম স্থান : ঢাকার নারিন্দা বাবা : এটিএম নুরুল ইসলাম [জুটবোর্ডের কর্মকর্তা] মা : বেগম ফরিদা ইসলাম [গৃহিণী] ভাইবোন : দুই ভাই দুই বোন বেড়ে ওঠা : বাবার বদলীল চাকরি সুত্রে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, মাদারীপুর ও অন্যান্যস্থান পড়াশোনা : অর্থনীতিতে মাস্টার্স জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বাবিদ্যালয় ঢাকা থিয়েটারে যোগ দেওয়া : ১৯৭৭ সাল টিভিনাটকে অভিনয় শুরু : ১৯৭৯ সাল চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু : ১৯৯১ সাল মৃত্যু : ১৩ ফেব্র“য়ারি ২০১২
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।