 |
| ফাইল ছবি |
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বেসরকারি অপারেটর নিয়োগে টেন্ডার বাতিলের আদেশের ওপর ৩ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী রেজা উল হকের নেতৃত্বে অবকাশকালীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
টেন্ডারে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার টেক লিমিটেডের গত সোমবার দায়ের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ক্রয়সংক্রান্ত কারিগরি ইউনিটের গঠন করা রিভিউ প্যানেল-৩ এক আদেশে এনসিটি’র বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের চলমান টেন্ডার বাতিলের নির্দেশ দেয়।
ওই আদেশে দ্বিতীয়বার প্রাকযোগ্যতার দলিল সংশোধন করে বাছাই করা সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডসহ দুটি প্রতিষ্ঠানের তালিকা বাতিলের নির্দেশ দিয়ে কেবল প্রথমবার বাছাই করা ৪টি প্রতিষ্ঠানকে রেখে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাইফ পাওয়ার টেক এর পক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক। তাঁকে সহায়তাকারী আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, ১১ সেপ্টেম্বর সিপিটিইউ’র দেয়া রায় ৩ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া সিপিটিইউ গঠন করা রিভিউ প্যানেল-৩ এর দেওয়া আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও আদালত জানতে চেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, নিয়মবহির্ভূতভাবে দরপত্র সংশোধনের অভিযোগ এনে দুটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর গত মাসে সিপিটিইউ এর কাছে অভিযোগ দাখিল করে। গত ১৪ আগস্ট ফিলিপাইনের টার্মিনাল অপারেটর ‘ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার টার্মিনাল সার্ভিসেস (আইসিটিএস)’ এবং গত ৩০ আগস্ট যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য পেনিনসুলার অ্যান্ড ওরিয়েন্ট স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি’ (পিঅ্যান্ডও) এই অভিযোগ করে।
এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দরপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল সিপিটিইউ’র গঠন করা রিভিউ প্যানেল-৩।
জানা গেছে, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই টার্মিনালে অপারেটর নিয়োগে প্রথম দফায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়। এরপর সে বছর জুলাই মাসে মূল দরপত্র বিতরণ করা হয়। কিন্তু দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণের সুযোগের কথা বলে ২০১০ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে এই দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।
দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত করার পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি-পিপিপি এবং অর্থমন্ত্রীর মতামত উপেক্ষা করে দফায় দফায় দরপত্রের শর্ত সংশোধন করা হয়। এরপর দুটি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে অংশ নেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়। নৌ-মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব শর্ত সংশোধন ও বাতিল করে।
দরপত্রে অংশগ্রহণকারী দুটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এই দরপত্রের শর্ত পরিবর্তন করে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডকে কাজ দেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ এনে গত মাসে আন্দোলন শুরু করেছিলেন সাবেক মেয়র ও বন্দর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
বাংলাদেশ সময়: ২১ ৪৭ঘন্টা, সেপ্টেম্বর ২৫ ২০১২
এমইউ/টিসি; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com