 |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সারা দেশে শান্তিপূর্ণ রাজপথ অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে, গাড়িতে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করেছে জামায়াত-শিবির।
তবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হস্তক্ষেপে শেষপর্যন্ত কোনো ধরনের সংঘাত বা সংঘর্ষ হয়নি।
এদিকে রোববার ১৮ দলীয় জোটের ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও অবরোধে চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য কোনো দলের নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি।
নগরীর শাহ আমানত সেতু চত্বরে সকাল ৬টার আগে থেকেই বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করে। পরে সেখানে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন নেতৃত্বে ও সহ-সভাপতি শামসুল আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতারা অবরোধের পক্ষে বক্তব্য দেন।
অন্যদিকে সমাবেশ চলাকালে কোতোয়ালি ও বাকলিয়া থানার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে জামায়াতের ব্যানারে মিছিল আসতে শুরু করে। এ সময় তারা জামায়াতের আটক নেতাদের মুক্তি দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসার পর শাহ আমানত সেতুর উত্তর পাশে জড়ো হয়ে শিবির কর্মীরা সেতুর বাম পাশের সড়কে টায়ারে আগুন দেয়। এ ছাড়া চত্বরের পশ্চিম ও উত্তর পাশে টায়ার জ্বালান শিবির কর্মীরা।
সমাবেশস্থল থেকে বারবার মাইকে ঘোষণা দিয়ে ভাঙচুর ও টায়ারে আগুন দিতে নিষেধ করা হলেও নিষেধ অমান্য করে আগুন দেন শিবিরের কর্মীরা। পরে বিএনপির কর্মীরা পানি ঢেলে আগুন নেভান।
এদিকে সকাল পৌনে ৯টার টার দিকে সমাবেশস্থলে বাকলিয়া থানার ওসি এক প্লাটুন পুলিশ নিয়ে উপস্থিত হন। এসময় শিবির কর্মীরা পুলিশ উদ্দেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। মিছিল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলে উভয়পক্ষ মুখোমুখি হয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫০ গজ উত্তরে গিয়ে অবস্থন নেয়।
বাকলিয়া থানার ওসি নুরুল আবসার ভূঁইয়া বিএনপি নেতাদের ডেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আগুন না দিতে সতর্ক করেন। উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি। এরপর বিএনপির নেতারা আশপাশ থেকে জামায়াত-শিবিরের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীদের সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নুরুল আবসার বাংলানিউজকে বলেন, ‘১৮ দলীয় জোটের শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালনে আমরা কোন ধরনের বাধা দিইনি। কিন্তু উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জামায়াত শিবিরের কিছু নেতাকর্মী উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে চাইলেও তাদের সতর্ক করায় কোন ধরনের সমস্যা হয়নি।
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় শিবির নেতারা যুদ্ধাপরাধের নামে জামায়াতের নেতাদের প্রসহনমূলক বিচার করা হলে শিবির তা মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সমাবেশে নগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল জব্বার, কোতোয়ালি থানা শিবির অর্থ সম্পাদক মহিউদ্দিনসহ বাকলিয়া ও কোতোয়ালি থানা ওয়ার্ড নেতারা বক্তব্য দেন।
রোববারের রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি ১৮ দলের ব্যানারে ডাকা হলেও বিএনপি-জামায়াত ছাড়া মূলত বাকি ১৬ দলের কোনো নেতা-কর্মীকে মাঠে দেখা যায়নি। তবে জোটের অন্যান্য শরিক দলের নেতারাও বিচ্ছিন্নভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন।
অবরোধ কর্মসূচি সফল হয়েছে দাবি করে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। সব শ্রেণির জনগণ এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রমাণ করেছে তারা আর এ সরকারকে চায় না।
বাস, ট্রাকসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলাচলে আমরা বাধা দিইনি। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই রোববার গাড়ি বের না করে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন চান বলেই অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।’
বাংলাদেশ সময়: ১৫১০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৯, ২০১২
এমইউ/এআরএম/টিসি