ঢাকা: নিম্নমুখী বিশ্ব অর্থনীতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক শিল্পের চাহিদা এবং মূল্য হ্রাস পেয়েছে। যা এরই মধ্যেই বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
এর ফলে চলতি অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। আগামী অর্থবছরেও রপ্তানি আয় কি হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।
বুধবার বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সংবাদ সম্মেলনে এমসিসিআই’র সহ-সভাপতি নিহাত কবির স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
বর্তমানে গার্মেন্ট খাতের অস্থিরতার বিষয়ে এমসিসিআই দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি ও বাজার চালু রাখা শুধুমাত্র সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং এতে উৎপাদনশীল শিল্পখাতের মালিক ও শ্রমিক উভয়পক্ষেরই সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সাম্প্রতিক তৈরি পোশাক খাতের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এমসিসিআই’র পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে ২১.৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা মোট রপ্তানি আয়ের শতকরা প্রায় ৭৮ ভাগ। ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের প্রায় ৫ হাজার কারখানার সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পোশাক শিল্পে শ্রম অসন্তোষ আপাতদৃষ্টিতে মজুরির সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০১০ সালে জুলাই মাসে পোশাক শিল্পখাতের জন্য সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা বেতন কাঠামো ঘোষিত হয়। এরপর দুই বছরও অতিবাহিত হয়নি।
অথচ এর মধ্যেই উচ্চতর মজুরির দাবি উঠেছে। একথা অনস্বীকার্য, বর্তমানের উচ্চ বাজার মূল্য ও জীবনযাত্রার জন্য সার্বিক ব্যয় নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। তবে তাদের এটাও বুঝতে হবে, মজুরি কাঠামো উৎপাদনশীলতা এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজার মূল্যের উপর নির্ভরশীল।
পাশাপাশি সংকট নিরসনে শ্রমিকদের ধৈর্য্য, মালিকদের শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি এবং পোশাক শিল্প ও অন্যান্য শিল্পখাতে বিরোধ নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
বাংলাদেশ সময়: ০২২৫ ঘণ্টা, জুন ২১, ২০১২
এইচএমএম/সম্পাদনা : আবু হাসান শাহীন, নিউজরুম এডিটর