 |
ঢাকা: পার হয়ে গেছে এক এক করে ১৬টি বছর। অনেকে ভুলে গেছেন সেই ১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির কথা। ভুলে যায়নি শুধু সেই পুঁজিহারানো বিনিয়োগকারীরা। অনেক বিনিয়োগকারী আবার ৯৬’র ক্ষত কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। বাজার ঘুরেও দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু ২০১০ সালে আবারও পুঁজিবাজারে নামে স্মরণকালের বড় ধস। যা এখনও ঠিক হয়নি।
পুঁজিবাজারে একের পর এক ধস নেমে আসলেও বিচার করা হয় না কারসাজিকারীদের। আটকে গেছে তাদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) করা ১৫টি মামলার বিচার প্রক্রিয়া।
জানা যায় বিভিন্ন সময় কারসাজিকারীরা উচ্চ আদালত থেক স্থগিতাদেশ নিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন। আর তাতে মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনও অগ্রগতি নেই।
উচ্চ আদালতে এসব মামলার বেশির ভাগই এসইসির পক্ষে পরিচালনা করছেন আইনজীবী ড. এ কে এম আলী। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘১৯৯৬ সালের পুঁজিবাজার কারসাজির কয়েকটি মামলা উচ্চ আদালতে ছিল। যা এখন নি¤œ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখন নি¤œ আদালতে বিচার শুরু হলে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।’
এদিকে, পুঁজি হারিয়ে বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন সময় রাস্তায নেমে বিক্ষোভ করলেও কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষ কোনও উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৯৬ সালে বাজার কারসাজির সাথে যারা জড়িত ছিল তারাই ২০১০ সালের বাজার কারসাজির সাথে জড়িত। ওই সময় কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে এসইসি যে মামলাগুলো করেছিল তার বিচার না হওয়ায় তারা আবার ২০১০ সালে কারসাজি করেছে। এসব কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যদি বিচার না করা হয় তবে তারা আবার বাজার কারসাজি করবে।
এদিকে, এসইসির করা মামলগুলোর পক্ষে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১৫টি মামলার একটিও নিষ্পত্তি হয়নি। নিম্ন আদালতে মামলা সচল হলে উচ্চ আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে আসামি পক্ষ। আর সেই স্থগিতাদেশ চলে বছরের পর বছর ধরে। এসব মামলা কবে নাগাদ শেষ হবে, সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদেরও কোনও ধারণা নেই।
জানা যায়, আসামি পক্ষ কোন একটি পয়েন্ট তুলে ধরে উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশের আবেদন করে। আর আদালতও সে আবেদনে সাড়া দিয়ে স্থগিতাদেশ জারি করেন। পরে ওই মামলা আবার সচল করতে চার-পাঁচ বছর লেগে যায়। আবার অনেক মামলার নথিও খুঁজে পাওয়া যায় না। কবে নাগাদ মামলাগুলোর বিচার কাজ শেষ হবে, সে সম্পর্কেও কেউ কিছু বলতে পারে না।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ১৯৯৭ সালের ২৭ মার্চ প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ১৭ ধারার বিধান ভঙ্গ করায় (অর্ডিন্যান্সের ২৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ) ৮টি ইস্যুয়ার কোম্পানি ও ৭টি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালের ৪ মে ১৫টি ফৌজদারি মামলা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ০৯৪৭ ঘণ্টা, আগস্ট ২৩, ২০১২
সম্পাদনা: নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর