 |
| ছবি: কাশেম হারুন / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
বইমেলা থেকে: অমর একুশে গ্রন্থমেলার চতুর্থদিনে মেলা প্রাঙ্গণ প্র্রায় ফাঁকা। সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলায় আসা পাঠক-ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সংখ্যা গত ৩ দিনের চেয়েও কম।
সোমবার সন্ধ্যা হতে হতে লোক কমছে বলে জানালেন স্টলে কর্মরত কয়েকজন।
আগামীকাল মঙ্গলবার জামায়াত হরতাল ডাকায় নাশকতার আশঙ্কায় পাঠক, ক্রেতা, দর্শনার্থী মেলা ছাড়তে শুরু করেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও মেলায় কম বই আসায় অনেকেই মেলা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করছেন।
মেলা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন এমন কয়েকজন পাঠকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এখনও এ বছরের নতুন বইগুলোর বেশির ভাগ স্টলে এসে পৌঁছায়নি। প্রতিবছরই মেলার মাঝামাঝি সময়ে নতুন বইগুলো আসতে শুরু করে বলে অভিযোগ করলেন তারা।
এমন হলে মাস জুড়ে বইমেলার আয়োজন না করে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শেষ দুই সপ্তাহই মেলা চালানো উচিৎ বলে মনে করেন তারা।
অপরদিকে, স্টলে উপস্থিত কয়েকজন প্রকাশক এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এ ব্যাপারে তাদের অভিযুক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। লেখক সাহিত্যিকদের দেরি করে জানুয়ারির শেষদিকে পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়াই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
স্টলের সামনে থাকা এক তরুণ লেখক তাৎক্ষণিকভাবে প্র্রকাশকদের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে জানান, তিনি অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়েই পাণ্ডুলিপি জমা দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও মেলার শুরু থেকে বইটি স্টলে আনতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন প্রকাশক।
তিনি জানান, তার অনেক পরে পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়া অনেকের বই এরই মধ্যে এসে গেলেও, তারটা আসেনি। বই প্রকাশে আগে-পরে পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়া নয়, বরং লেখকের সঙ্গে প্রকাশকের বিভিন্ন ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক বিষয়-আশয়ই নির্ধারণ করে কোন বইটি কখন প্রকাশিত হবে।
এদিকে, আজ মেলায় পাঠক-ক্রেতা ও দর্শনার্থী স্বল্পতার জন্য দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মঙ্গলবারের হরতালের ঘোষণাকেও কেউ কেউ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এমন নিরুত্তাপ মেলা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে কয়েকজন স্মরণ করলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সংগঠিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের কথাও। আশঙ্কা করা হচ্ছে, জামায়াত-শিবিরের ডাকা হরতালের কারণে আগামীকাল মঙ্গলবার, বইমেলার পঞ্চম দিনটি আরও নিরুত্তাপ ও থমথমে হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৩
সম্পাদনা: আসিফ আজিজ, নিউজরুম এডিটর/আশিস বিশ্বাস