পাটগ্রাম(লালমনিরহাট): লালমনিরহাট সদর উপজেলার কাশিপুর এলাকায় মৃত্যুর ২৮দিন পর রিয়াদ নামে এক শিশুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ২১ মাস বয়সি ওই শিশুর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
এ সময় রিয়াদের পিতা পুলিশ কনস্টেবল মোক্তার হোসেন ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। অন্যদিকে, লাশ উত্তোলনের খবর পেয়ে গ্রেফতারের ভয়ে আত্নগোপনে রয়েছেন ওই শিশুর মা রেহেনা পারভীন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
লাশ উত্তোলনের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট পুলিশের এএসপি মামুন খাঁন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জমির উদ্দিন সরকার, মহেন্দ্রনগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সোবাহান প্রমুখ।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৭ জুলাই লালমনিরহাটের কাশিপুর এলাকার তমিজ উদ্দিনের মেয়ে রেহেনা পারভিনের সঙ্গে একই এলাকার মৃত খয়বর আলীর ছেলে মোক্তার হোসেনের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। শিশুটির বাবা মোক্তার হোসেন পুলিশে চাকরি করতেন। সেই সুবাধে তিনি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় থাকতেন। সেখানে থাকা অবস্থায় স্ত্রী সন্তানের খোজঁ নেয় না বলে অভিযোগ তুলেন স্ত্রী রেহানা পারভিন।
এরই এক পর্যায়ে রেহেনা স্বামীর বিরুদ্ধে একটি খোরপোষের মামলা দায়ের করে। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
এরই মধ্যে ১২ মে শিশু রিয়াদকে তার মা গোসল করার সময় শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠে। রিয়াদকে সেই দিনই তরিঘড়ি করে বাবা মোক্তার হোসেনের অনুপস্থিতে দাফন করা হয়।
এতে শিশুটির বাবা মোক্তার হোসেনের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরই এক পর্যায়ে তিনি গত ১৫ মে লালমনিরহাট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মণ্ডলের আদালতে রিয়াদকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি সদর থানার পুলিশকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পূনঃরায় সুরতহাল এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণের নির্দেশ দেয় আদালত।
সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে শনিবার দুপুর ১২টা ১১মিনিটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইমলামের নেতৃত্বে পুলিশ ২১ মাসের শিশু রিয়াদের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ০৫৩৭ ঘণ্টা, জুন ১০, ২০১২
সম্পাদনা: মাহাবুর আলম সোহাগ, নিউজরুম এডিটর