ঢাকা: এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সামরিক মহড়া শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার।
এ মহড়া উদ্বোধনে যোগ দিতে রোববার সকালে ঢাকা পৌঁছেছেন সপ্তম নৌবহরের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এসকট এইচ সুইফট।
বিকেলে রাজধানীর হোটেল র্যাডিসনে এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন তিনি।
বৈঠকে অ্যাডমিরাল সুইফট বলেন, “বঙ্গোপসাগরে কোনো নৌঘাঁটি স্থাপনের ইচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নেই। জলদস্যুদের হাত থেকে বাংলাদেশের নৌসম্পদ রক্ষা, সন্ত্রাসী আক্রমণ প্রতিহত এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে কাজ চালানোর জন্য বাংলাদেশ সেনা ও নৌবাহিনীর সামর্থ্য বাড়াতে সহযোগিতা করতেই আমাদের বেশি আগ্রহ।”
গোলটেবিলে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাও বক্তব্য রাখেন।
এদিকে চট্টগ্রামের ঈসা খাঁ নৌঘাঁটিতে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র নৌ-বাহিনীর মধ্যে দ্বিতীয় বার্ষিক কো-অপারেশন অ্যাফ্লোট রেডিনেস অ্যান্ড ট্রেইনিং (ক্যারাট) ১৭ সেপ্টেম্বর সোমবার শুরু হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এবং অন্যান্য দেশের সামরিক বাহিনীর দ্বিপাক্ষিক ধারাবাহিক সামরিক অনুশীলন এটি। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- বাংলাদেশ, ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং পূর্ব তিমূর।
রোববার ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সপ্তাহব্যাপী এ অনুশীলনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা দক্ষতা বৃদ্ধি ও অংশগ্রহণকারী বাহিনীর সামরিক অভিযানের সমন্বয় ছাড়াও এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী সামরিক বাহিনীর মধ্যে খেলাধূলা, সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরির দিকে লক্ষ্য রাখা হয়।
এছাড়া, নাগরিক কর্মসূচি ও কম্যুনিটি সেবামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশে প্রথম ক্যারাট হয় ২০১১ সালে। এ অনুশীলনে আন্তঃবাহিনী সামরিক অভিযানের ওপর জোর দেয়া হয়। দুই দিনব্যাপী সমুদ্রে জাহাজ থেকে জাহাজে অভিযান, নদীভিত্তিক যুদ্ধকৌশল, ডুবুরী দিয়ে উদ্ধার, ভিজিট, বোর্ড, সার্চ অ্যান্ড সিজার (ভিবিএসএস) প্রশিক্ষণ এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বহুবিধ প্রশিক্ষণের ওপর ভিত্তি করে এ বছরের অনুশীলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- সী-রাইডার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, শিপবোর্ড হেলিকপ্টার অভিযান এবং তিন দিনব্যাপী সামুদ্রিক অনুশীলন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ক্যারাটের লক্ষ্য হল- আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমঝোতা বৃদ্ধি এবং নৌ-বাহিনী ও মেরিনদের মধ্যে আস্থা তৈরি।
এছাড়া, অভিযানের জন্য উভয় দেশের প্রস্তুতি বাড়ানো। আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়তা করে সামুদ্রিক তৎপরতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময়, জলদস্যু বিরোধী, চোরাচালান বিরোধী এবং সমুদ্রে যৌথ অভিযানের দক্ষতা বৃদ্ধিও এর লক্ষ্য।
এ বছরের ক্যারাটে বাংলাদেশের যেসব জাহাজ অংশ নিচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম- বিএনএস বঙ্গবন্ধু, বিএনএস সাঙ্গু এবং বিএনএস নির্ভয়।
বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর সদস্য এবং স্পেশাল ওয়ারফেয়ার ডাইভিং অ্যান্ড স্যালভেজ’এর সদস্যরা বিএনএস ঈসা খাঁতে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী অনুশীলনে অংশ নেবেন।
অপরদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান যে দু’টি জাহাজ অংশ নিচ্ছে তা হলো- ইউএসএস ডেকাটিইর (ডিডিজি ৭৩) এবং ডাইভিং অ্যান্ড স্যালভেজ জাহাজ ইউএসএনএস সেফগার্ড (টি-এআরএস ৫০)।
এছাড়া, ফ্লিট এন্টি-টেরোরিস্ট সিকিউরিটি টিম প্যাসিফিকের (এফএএসটিপিএসি) মেরিন সদস্য, রিভারাইন স্কোয়াড্রন-২ (রিভরন ২) এবং মোবাইল আন্ডারওয়াটার ডাইভিং স্যালভেজ ইউনিটের নাবিকেরা এতে অংশ নিচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১২
কেজেড/সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর