ঢাকা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মামলার পরবর্তী তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকবেন মর্মে আদালতে লিখিত অঙ্গীকার (আন্ডারটেকেন) করেছেন তার আইনজীবী।
একই সঙ্গে আদালত খালেদার উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আগামী ১১ অক্টোবর।
বৃহস্পতিবার মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সংসদ অধিবেশন চলায় খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হতে পারছেন না মর্মে সময়ের আবেদন করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।
ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোজাম্মেল হোসেইনের আদালতে এ আবেদন করা হয়।
কিন্তু এর আগে বেশ কয়েকটি তারিখে খালেদা আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারক পরবর্তী তারিখে তিনি অবশ্যই হাজির থাকবেন- এ মর্মে লিখিত অঙ্গীকার (আন্ডারটেকেন) ছাড়া সময় মঞ্জুর করবেন না বলে জানান আদালত।
এর প্রেক্ষিতে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া আদালতে লিখিত অঙ্গীকার করেন।
আদালতে সময়ের আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, “দরখাস্তকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া পরবর্তী তারিখে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত থাকবেন। আমি তার আইনজীবী হিসাবে আন্ডারটেকেন দিচ্ছি।”
আদালত এ আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১১ অক্টোবর খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
এছাড়া, আসামি পক্ষে মামলাটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা আবেদন সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ ওই দিন আদালতে দাখিল করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ব্যর্থতায় ওই দিন অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার একই মামলায় অপর আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ হাজিরা দিয়েছেন।
মামলায় জামিনে থাকা আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
অন্য আসামি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করে।
মামলায় এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৪২৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১২
এমই/সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর