 |
ঢাকা: পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও সীমিত পর্যায়ে নগর উন্নয়নের লক্ষ্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করছে সরকার।
ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আদলেই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। তবে পরিকল্পিত একটি নগরী গড়ে তুলতে আবাসন উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করা করা হবে।
এ লক্ষ্যে সোমবারের মন্ত্রিসভায় ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৩’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “পর্যটন শিল্পের অমিত সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পর্যটনকে গুরুত্ব দিয়ে আলাদা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। সীমিত পর্যায়ে নগর উন্নয়নও করবে এই কর্তৃপক্ষ। নগর উন্নয়নে দরিদ্রদের আবাসন সুবিধার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “ঢাকা ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে আবাসনের গুরুত্ব বেশি থাকলেও কক্সবাজার কর্তৃপক্ষের পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব দিয়ে আবাসন বাদ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু স্থানীয় জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পর্যায়ে আবাসন উন্নয়নের বিষয়টি রাখা হয়েছে।”
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একজন চেয়ারম্যান এবং প্রশাসন, উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য তিনজন সদস্য থাকবেন। ভূমি, পরিবেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কক্সবাজারের মেয়রসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন
ভুল তথ্য দিলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (সংশোধন) আইন-২০১৩’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “১৯৭৩ সালের আইনটি সংশোধন করে আরো কিছু সংযোজন করে এ আইনের খসড়া অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগ আইনটির খসড়া মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে। মন্ত্রিসভা ওইদিন নীতিগত অনুমোদন দিলেও পর্যবেক্ষণ করে পরিমার্জনের নির্দেশনা দেয়।”
মোশাররাফ হোসেন ভূঁইঞা জানান, “প্রস্তাবটিতে কিছু পরিমার্জনসহ সোমবার মন্ত্রিসভায় আবার উত্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ভেটিংয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে চুড়ান্ত অনুমোদন হলে জাতীয় সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে।”
তিনি বলেন, আইনটির প্রধান দিক হচ্ছে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন, ১৭ ডিজিটের পরিচিতি নম্বর, প্রবাসীদের ভোটার রেজিস্ট্রেশন এবং মিথ্যা তথ্যের জন্য শাস্তি।
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সভা
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়নে কমনওয়েলথ অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনে গত বছরের ৯ থেকে ১৪ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সভায় যোগ দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এ অংশগ্রহণের বিষয়টি মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-তুরস্ক যৌথ কমিশনের চতুর্থ সভা সম্পর্কেও মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো জানান, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সভা ও বাংলাদেশ-তুরস্ক যৌথ কমিশনের চতুর্থ সভায় অর্থমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে অবহিত করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৩
এসএমএ/ সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর- eic@banglanews24.com