 |
বিশ্বনাথ (সিলেট) থেকে: ইলিয়াস আলীর জন্মস্থান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ ভবনে আগুন দিয়েছে উত্তেজিত জনতা।
সোমবার দেশব্যাপী হরতালের দ্বিতীয় দিন বেলা সোয়া দু’টার দিকে পুলিশের সঙ্গে এ সংঘর্ষ শুরু হওয়ার সোয়া এক ঘণ্টার মাথায় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিক্ষুব্ধ কর্মীরা উপজেলা পরিষদ ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেয় বিক্ষুব্ধরা।
এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতাকে সামলাতে টিয়ারশেল আর ফাঁকা গুলি ছুঁড়েও কাজ না হওয়ায় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্বনাথে আসে ১৫ গাড়ি র্যাব। আরো আগেই পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় দেশি অস্ত্রধারী যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে গুলি চালায় তারা। তাই সংঘর্ষ ক্রমশই ভয়াবহ রূপ নিতে থাকে।
এরই মধ্যে বেশ ক’জন পুলিশসহ জনা চল্লিশেক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিশ্বনাথ থানার ওসি (তদন্ত) চান মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগে উত্তেজিত বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিশ্বনাথ বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থানার পাশে রাস্তায় আগুন জ্বালায়। এ সময় পুলিশের বেশ কয়েকটি অস্ত্র কেড়ে নেয় বিক্ষুব্ধরা। কয়েকজন পুলিশকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতেও দেখা যায়।
দুপুর সোয়া দু’টার দিকে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের বের করা মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। অল্পক্ষণেই তা ছড়িয়ে পড়ে শহর জুড়ে। বিশ্বনাথ বাজারের কয়েক বর্গকিলোমিটর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
লোকজন লাঠিসোটা হাতে রাস্তায় নেমে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। নিক্ষেপ করতে থাকে ইট-পাটকেল। উত্তেজিত জনতাকে সামলাতে টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে পুলিশ।
সিলেটের পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বিক্ষুব্ধ জনতাকে সামলাতে প্রায় ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে পুলিশ। তবে এতে জনতাকে শান্ত করা সম্ভব হয়নি।
বেলা পৌনে চারটায় চতুর্থ দফায় এ রিপোর্ট আপডেট করার সময়েও উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিলো।
বাংলাদেশ সময়: ১৫২১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৩, ২০১২
সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর