 |
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক মাসে ১৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
একের পর এক খুনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক মাসে ১৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত ১ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পৌর শহর, জেলার আখাউড়া, কসবা, নবীনগর, সরাইল, নাসিরনগর এবং বাঞ্ছারামপুরে এসব ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ ৩১ মে বৃহস্পতিবার কসবা রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় (৫৫) এক বৃদ্ধের লাশ পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কালীবাড়ি মোড় এলাকার রহমানিয়া হোটেল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় (২৬) এক তরুণীর গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, আগের দিন দুপুরে এক তরুণের সঙ্গে হোটেলে উঠেছিলেন ওই তরুণী। এটি পরিকল্পিত খুনের ঘটনা বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এর আগে ২৯ মে জেলার কসবায় প্রতিপক্ষের এক যুবককে হাতপায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়।
একই দিন সদর উপজেলার জাঙ্গল গ্রামে সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত হন।
গত ২০ এবং ২১ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউপির কোড্ডা ও পৌর শহরের উরশীউড়া এলাকায় হাত-মুখ এবং চোখ বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় ২ যুবকের লাশ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।
দুজনকেই মাথার পেছন দিকে আঘাত করে একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। দুজনেই একই রঙের নতুন লুঙ্গি এবং গেঞ্জি পরা ছিলেন।
পুলিশ ধারণা করছে, একই অপরাধীরা এ দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে লাশ দুটি দু’স্থানে ফেলে রাখে। এ ঘটনা পুলিশকে ভাবিয়ে তুললেও গত ১০ দিনে ওই লাশ দু’টির পরিচয় জানতে পারেনি তারা।
অপরদিকে, ২০ মে গভীর রাতে জেলার নবীনগরে ডাকাতির সময় এক নারীকে ধর্ষণ করে তার ২ বছরের এক শিশুকে হত্যা করে ডাকাতরা। এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান এবং পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
এদিকে, ২১ মে বিকেলে খড় নিয়ে ঝগড়ার জের ধরে সরাইলে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই নিহত হয়েছেন।
১৬ মে আখাউড়ার উত্তর ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকা থেকে বাবুল মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
১৪ মে বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দূর্গাপুরে রড দিয়ে পিটিয়ে দেওয়ান রানা (২৫) নামে এক যুবককে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
১৩ মে জেলার আশুগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষের জের ধরে ফিরোজ মিয়া (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়।
১১ মে সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় চাতলপাড় ইউনিয়নের বোমালিয়া নদীর পাড় থেকে নবীর হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে হত্যা করেছে।
এছাড়াও, ৯ মে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামের রেললাইনের পাশ থেকে এক যুবকের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পরকীয়ায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন রিয়াজুল ইসলাম (২৫) নামে ওই যুবককে ট্রেনের নিচে ফেলে হত্যা করে।
৬ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌর শহরের পৈরতলা রেলগেট এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের (২৮) লাশ উদ্ধার করে আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ।
৫ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর গ্রাম থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার জামিল আহামেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘সম্প্রতিক সময়ে খুনের ঘটনা কিছুটা বেড়েছে সত্যি। কিন্তু, আমরা প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদঘাটনের আপ্রাণ চেষ্টা করছি। অনেক খুনের ঘটনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে অনেক সময় অন্য জেলায় খুনের পর লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেলে রাখা হয়।‘
সম্প্রতি, কয়েকটি ঘটনায় এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামিল আহামেদ আরও বলেন, ‘অপরাধ প্রবণতার হ্রাস-বৃদ্ধি থাকেই। সেভাবেই এ মাসে খুনের ঘটনা বেশি হয়েছে। তবে এসব ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পরিসংখ্যান মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলেছে। আর এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ফলে এসব ঘটনা ঘটছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৭১৯ ঘণ্টা, মে ৩১, ২০১২
সম্পাদনা: শামীম হোসেন, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর