 |
পদার্থ বল বেয়ারিং-১
শোন রে কথা এক্ষুণি যা হরিকে বল হরি
পুঁজ মাখানো তুলায় আমি জীবাণুনাশ করি
ময়লা ক্ষত সাফাই করি বীজাণুময় হাতে
ভাত খাবো না তুমি আমার বিষ্ঠা দিও পাতে
ছাই পাথুরে মেঘ দেখেছি নয় ততটা কালো
দেখার চেয়ে তোমার কথা কানে শোনাই ভালো
রোদ তিতিয়ে ফুল শুকালো শস্য সেও মরা
এবার শীতে রিলিফে চাল হচ্ছে বিলি করা
মিশর থেকে আসবে রাণী মুরগি জবা’ করো
দু’ভাগ করো রক্তে মাখা হৃৎপিণ্ডখানি...
পদার্থ বল বেয়ারিং-২
ঘুঙুর, ছিঁড়ে ফ্যালো অদৈব প্রেম— ছিঁড়ে ফ্যালো অগ্নিস্বভাব— রক্তস্রোতের মুখে কপাটিকা খুলে দাও— সেইখানে শ্বাশ্বত চিহ্ন হয়ে রবে অশ্বক্ষুরাঘাত— অচেনা অরণ্যে ওঠে ঝড়— ঝড় থেমে যায়— আমি জানি তমসার নিচে থাকে ছোবলের বিষ— পিরিচে লেগে থাকে কামড়ের দাগ— মৃত্যুর মতো অন্ধকারে রাত্তির পড়ে থাকে— পড়ে থাকে লৌহশর— ঘুমন্ত সাপ ওঠো— নাচঘরে অদৈব আছে— লৌহশরে মিশে আছে অপার্থিব পাখির আর্তনাদ— দ্যাখো, আধখোলা জানালার পাশে পড়ে আছে মৃত কাঠবিড়াল— বিপুল বরষায় একচ্ছত্র পাতার আড়ালে ভেসে ওঠে বৃষ্টিভেজা মাছের শরীর— আজ অন্ধকার কেবলি ডানাভাঙা সাপের উল্লাস— আজ অন্ধকার কেবলি অনিঃশেষ স্মৃতিচিহ্নের জোলাপ...
পদার্থ বল বেয়ারিং-৩
সূর্য ক্রমে ক্রমে হেলেছে পশ্চিমে
মেঘেরা ছাই কণা অন্ধ রাত নামে
পাথরে জোনাকিরা আলেয়া হয়ে জ্বলে
ব্যথাতে সংকোচে গণনারহিতরা
গিলেছে কাঁটাফল লেহনে পশুসব
মরেছে গ্যালিলিও তোমার পৃথিবীটা
ঘুরছে বনবন ঘুরছে অর্কিড
কোথা সে পর্বত উদরপ্রদাহ
ক্রমশ বেড়ে চলে ঘোড়া ও হ্রেষা,—রব
রোগের জীবাণু সে ছড়িয়ে মহামারী
আমার কাশিভরা যক্ষ্মা-জীবাণুরা
রক্তে ভেসে ভেসে এ-বুকে বিঁধে থাকে
খাঁচার ভেতরে কি পাখি না পশু ওরা
বুঝিনি বেলকনি লোহিত ফুলে ফুলে
ভরেছে কোনবেলা মরণও সন্ধ্যায়...
বাংলাদেশ সময়: ১৫৪৬ ঘণ্টা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২
সম্পাদনা: জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com