 |
| ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
রংপুর:রংপুরে পুলিশের ওপর শিবিরের বোমা হামলা, পুলিশ সদস্যদের বেধড়ক মারধর এবং উপর্যুপরি বোমার আঘাতে রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সোমবার ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর মিছিলে পুলিশি বাধা এবং আটকের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিবিরকর্মীরা রংপুর শহরের শাপলা চত্বর থেকে একটি মিছিল নিয়ে গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে বিএনপি অফিসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
এরপর মিছিলটি আবার শাপলা চত্বরে ফিরে এসে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে শিবিরকর্মীদের ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় শিবিরকর্মীদের ধাওয়ায় পুলিশ পিছু হটলে রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলতাফ হোসেনের ওপর বোমা হামলা চালায় শিবিরের কর্মীরা।
এতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। এ সময় শিবিরকর্মীদের পা জড়িয়ে ধরে তিনি প্রাণভিক্ষা চান। এর পরেও শিবিরের উন্মত্ত কর্মীরা তাকে বেধড়ক মারপিট করে এবং বোমা ফাটায়। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন।
এঘটনা দেখে র্যাবের সঙ্গে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে বেপরোয়া শিবিরকর্মীরা উপর্যুপরি বোমা হামলা চালাতে থাকে। এতে এলাকাবাসী, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা পিছু হটে যায়। আতঙ্কে লোকজন প্রাণভয়ে দিগবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন।
এরপর পুলিশ ও র্যাব তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে শিবিরকর্মীদের ওপর টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে। এসময় র্যাব ও পুলিশের সঙ্গে আরও এলাকাবাসী যোগ দিয়ে শিবির কর্মীদের বিতাড়িত করেন। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় শিবিরকর্মীরা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় কোতোয়ালি থানার ওসি আলতাফ হোসেনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, শিবিরের তাণ্ডব এবং রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসির ওপর উপর্যুপরি হামলা দেখে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জামায়াতে ইসলামীর অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং আগুন লাগিয়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, বেশ কয়েকজন শিবিরকর্মীর হাতে পিস্তল, চাইনিজ হাতিয়ার ছিল। এসময় পুলিশসহ দেড় শতাধিক আহত হয়।
জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট জামায়াতে ইসলামীর অফিসে লাগানো আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার সময় শাপলা চত্বর এলাকার ছাত্রী হোস্টেলের ছাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
র্যাব-৫ স্কোয়াড্রন লিডার সালাউদ্দিন বাংলানিউকে জানান, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরপরই তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, শাপলা চত্বরের পিরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ ঘটনার পর শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ সময়: ১২১৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৬, ২০১২
সম্পাদনা: রাফিয়া আরজু শিউলী, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর jewel_mazhar@yahoo.com