 |
ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভারে ব্যাটম্যানের প্রিমিয়ার শো’তে হামলাকারী সন্দেহে আটক যুবককে বিজ্ঞানের একজন মেধাবী ছাত্র বলে জানে সবাই। জ্যামস এজেন নামের ২৪ বয়সী ওই যুবক বড় হয়েছেন স্যান ডিয়েগোর একটি সাজানো গোছানো দু’তলা বাড়িতে। লালিত-পালিত হয়েছেন নার্স (সেবিকা) আরলিন এবং সফটওয়্যার কোম্পানির ব্যবস্থাপক রবার্ট জ্যামস হোমস দম্পতির ঘরে।
প্রতিবেশীরা বলছেন, জ্যামস এজেন একজন পরিচ্ছন্ন, পড়ুয়া এবং কথা বলার সময় বেশ সতর্ক এক সচেতন যুবক। ২০০৪ সালের হাইস্কুল ইয়ারবুকে তাকে দেখা যাচ্ছে, ফুটবল দলের ১৬নং জার্সি গায়ে একজন লম্বা, কালো চুলের অধিকারী বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ। কলেজে তিনি বিজ্ঞানের তুখড় শিক্ষার্থী বলেই পরিচিত ছিলেন।
এখন সবার কাছে এটাই সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের ব্যাপার যে, তরুণ এ ডক্টরেট শিক্ষার্থী কেন হুট করে গ্যাসমাস্ক আর বন্দুক হাতে তুলে নিলেন। আর কেনইবা নির্বিচানে ১৪ জন মানুষ হত্যা করলেন।
অবশ্য বিষয়টি এখনো পুলিশের সন্দেহজনক তালিকায় আছে। তার ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু এখনো প্রশাসন জানায়নি।
আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের এ যুগে জ্যামসের কোনো নাম-নিশানা নেই। ফেসবুক, লিঙ্কডইন, মাইস্পেস, টুইটার বা অন্য কোথাও তার কোনো চিহ্ন নেই। ধারণা করা হচ্ছে, হয় তিনি এসবের সঙ্গে যুক্ত নন অথবা পরিচয় গোপন করেছেন।
স্যান ডিয়েগোতে যারা বহুদিন ধরে প্রতিবেশী হিসেবে আছেন তারা বলছেন, জ্যামস হোমস ‘লাজুক.. একাকী’ মানুষ। তার পরিবার নিয়মিত গির্জায় যায়। তিনি ওয়েস্টভিউ হাইস্কুলে ফুটবল খেলতেন। এ সুবাদে সারা দেশেই ঘুরেছেন তিনি।
বইয়ের পোকা এ ছেলেটি একটি গর্ত জীবন যাপন করতে বলে অনেকে বলছেন। প্রতিবেশীরা বলছেন, ২০১০ সালের বসন্তে রিভারসাইডের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিউরোসায়েন্সে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর একটা কাজের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন তিনি।
গত বছর ডেনভারে ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোতে নিউরোসায়েন্সে পিইএচডি গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা স্থগিত করার প্রক্রিয়ায় রেখেছিল বলে জানা যায়। তবে প্রথমে তারা এর কারণ জানাতে রাজি না হলেও পরে বলে, জ্যামস ২০১২ সালের জুনে পিএইচডি প্রোগ্রাম ছেড়ে দিয়েছেন।
ডেনভারে পিএইচডির অ্যাডভান্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে মে মাসে মাইক্রো ডিএনএ বাওমারকারের বিষয়ে জ্যামস একটি প্রেজেন্টেশনের জন্য তালিকাভূক্ত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর টিমোথি পি হোয়াইট বলেন, “পড়াশুনার দিক থেকে জ্যামস ছিল সেরাদের সেরা।” তিনি জানান, জ্যামসের আগ্রহের বিষয় ছিল ‘আমরা কীভাবে বিভিন্ন আচরণ করি’ তা। “এটা সত্যিই হাস্যকর আর দুঃখজনক”- বলেন হোয়াইট।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে হোমস কোনোভাবেই কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না। তার মধ্যে সম্ভাবনা অফুরন্ত। পুলিশের সাথে তার কোনো ঝামেলা হয়ে থাকতে পারে এমনটিও বিশ্বাস করা যায় না।
কিন্তু জ্যমসের অস্বাভাকি আচরণের কিছু দিকও তুলে ধরেছেন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের কমিশনার রে কেলি। তিনি বলেন, “চুলে লাল রং করতেন জ্যামস আর নিজেকে বলতেন ব্যাটম্যান সিনেমার সবুজ চুলের ভিলেন সেই ‘জোকার’ বা ভাঁড়।”
পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ব্যাটম্যানের সর্বশেষ সিক্যুয়েল ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’ এর প্রিমিয়ার শো চলাকালে জ্যামস যখন হামলা করেন তখন তার পরনে ছিল কালো পোশাক, একটি গ্যাসমাস্ক, ব্যালিস্টিক হ্যালমেট, হাতে মোজা এবং নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় আর সবকিছু।
তার হাতে ছিল একটি রাইফেল, একটি শটগান এবং একটি গ্লোক হ্যান্ডগান।
কেন্দ্রীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হামলার সময় জ্যামস চারটি বন্দুক ব্যবহার করেন। এগুলো তিনি দু’মাস আগেই একটি খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে কেনেন।
ডেনভারে হামলার পরক্ষণেই প্রেক্ষাগৃহের বাইরে থেকে জ্যমসকে আটক করে পুলিশ। আগামী সোমবার সকালে তাকে কলোরাডোর সেন্টেনিয়্যালের কাছে অ্যারাপাহো কাউন্টি জেলা আদালতে হাজির করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী যোগসূত্র পায়নি বা হামলার কোনো উদ্দেশ্যও তাদের কাছে পরিষ্কার নয়। আর এর আগে ডেনভারে জ্যামসের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ সংঘটনের রেকর্ডও নেই।
এদিকে জ্যামসের পরিবার এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছে, “গত দিনের ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের জন্য আমাদের প্রাণও কাঁদছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার যারা শিকার এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। কিন্তু গণমাধ্যমের প্রতি আমাদের অনুরোধ, এরকম কঠিন সময়ে তারা আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়ের মর্যাদা রক্ষা করবেন।”
বাংলাদেশ সময়: ১৪৫৬ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০১২
সম্পাদনা: জাহাঙ্গীর আলম, নিউজরুম এডিটর