 |
| ছবি: জীবন আমীর /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত। এতে নৈতিক সমর্থন দিয়েছে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের অন্য শরিকরা।
সোমবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ হরতালের ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে হরতাল সফল করতে দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন শফিকুর রহমান।
আওয়ামী লীঘ একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করতে চায় অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি না পেয়ে একান্ত বাধ্য হয়েই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি প্রদান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, সারাদেশে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি প্রদান, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবিতে এবং আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, সরকারের দুঃশাসন, সীমাহীন দুর্নীতি ও ইসলামী মূল্যবোধের উপর আঘাতের প্রতিবাদে জামায়াতের পক্ষ থেকে ৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারী মতিউর রহমান আকন্দ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দুঃশাসনে দেশ ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের সঙ্গে করা ওয়াদা বাস্তবায়নের দিকে নজর না দিয়ে তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় আসার চেষ্টায় লিপ্ত।”
“সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড ও দেশ পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতার বিরুদ্ধে যাতে বিরোধীদল কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে সে জন্য সরকার দমননীতি চালাচ্ছে” অভিযোগ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত গণতান্ত্রিক দল। আমরা বরাবরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী।”
শফিকুর রহমান বলেন, “কিন্তু সরকারের চার বছরের মেয়াদকালে জামায়াতকে শান্তিপূর্ণভাবে কোন গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ মিছিল, সভা-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার ভোগ করার ব্যাপারে সরকার শুধু হয়রানি করছে না, অধিকন্তু জামায়াতের শীর্ষ নেতাদেরসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে, গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে অমানবিকভাবে তাদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।”
শফিকুর রহমান বলেন, “তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচারের নামে প্রহসন চলছে। সরকারের এসব জুলুম-অত্যাচার মোকাবেলায় ধৈর্যসহকারে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। গত ২৯ নভেম্বর জামায়াতের পক্ষ থেকে দেশাব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষিত এ কর্মসূচি সফল করার জন্য ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশের সব মহানগরী, জেলা, উপজেলা ও থানা সংগঠন শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও মিছিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করে।”
তিনি বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম, সরকার গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমাবেশের অনুমতি তো দেওয়াই হয়নি, উপরন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর মিডিয়ার সামনে অত্যন্ত কড়া ও রূঢ় ভাষায় বলেছেন, ঢাকাসহ দেশের কোথাও জামায়াতকে সমাবেশ ও মিছিল করতে দেওয়া হবে না। জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য তিনি বলেছেন- জামায়াত সভা ও মিছিলের অনুমতি নেয়নি এবং আবেদনও করেনি। অথচ গত ২৯ নবেম্বরই ঢাকা মহানগর জামায়াতের সব শাখার পক্ষ থেকে সারাদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমাবেশ ও মিছিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। এ সব ঘটনা প্রবাহ থেকে প্রমাণিত হয় যে, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।”
বিএনপি’র নৈতিক সমর্থন
এদিকে রাতে জামায়াতের ডাকা মঙ্গলবারের হরতালে নৈতিক সমর্থন দিয়েছে প্রধান বিরোধীদল বিএনপিসহ ১৮দলীয় জোট। প্রচলিত আইনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জামায়াত ইসলামী তাদের সোমবারের বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচিতে সরকারি বাধা দেওয়া অন্যায়, বেআইনি ও প্রজাতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এর প্রতিবাদে জামায়াত মঙ্গলবারের যে সকাল-সন্ধ্যা দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচি দিয়েছে সে কর্মসূচি যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক। তাদের আজকের কর্মসূচি বানচালের জন্য সরকারের পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও কর্মীদের মাঠে নামানো ন্যাক্কারজনক অভিহিত করেছে বিএনপি।
সোমবার রাতে বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।
সরকারের এই মনোভাব দেশকে রাজনৈতিক সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী জনগণ দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভোবে সংকিত।
এ কারণে জামায়াত ঘোষিত হরতালে প্রতি নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি।
উল্লেখ্য, জামায়াত ঢাকাসহ সারাদেশে সোমবার বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি দিলেও তাদের তা করতে দেওয়া হয়নি। আর তারই প্রতিবাদ হিসেবে মঙ্গলবার সারাদেশে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা দেয় ১৮ দলীয় জোটের প্রভাবশালী এ দলটি।
বাংলাদেশ সময়: ২৩১২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৩, ২০১২
বিজ্ঞপ্তি/জেডএম; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর eic@banglanews24.com