ঝিনাইদহ: আসল ছাত্রের পরিবর্তে নকল ছাত্র সাজিয়ে ভুয়া নিবন্ধন ও পরীক্ষা দেওয়ায় এখন এক সার্টিফিকেটের দাবিদার ২ জন।
এ ঘটনার নেপথ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাকাইসিদ্ধি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে শৈলকুপা উপজেলার আগুনিয়াপাড়া গ্রামের মজিবর খানের ছেলে সাদ্দাম হোসেন যশোর বোর্ডের অধিনে বাণিজ্য বিভাগ থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার (এসএসসি) জন্য রেজিস্ট্রেশন (৮১৬৯৭২) করে।কিন্তু হঠাৎ সাদ্দাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এ সুযোগে প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সাদ্দাম হোসেনের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বিপরীতে একই উপজেলার বড়বাড়ি বগুড়া গ্রামের ওয়াহেদ কাজীর ছেলে রেজাউল করিমের ছবি লাগিয়ে ফরম পূরণ করে বোর্ডে পাঠিয়ে দেন।
সে সময় প্রধান শিক্ষক আশ্বাস দেন রেজাউলের নাম ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি বোর্ড থেকে ঠিক করা যাবে।
এসএসসি পরীক্ষার আগে সাদ্দাম হোসেনের ঠিকানায় রেজাউল করিমের ছবি সম্বলিত প্রবেশপত্র ইস্যু হয় এবং রেজাউল করিম ২০১১ সালে পরীক্ষা দিয়ে ৩ বিষয়ে অকৃতকার্য হন।
চলতি বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় রেজাউল পাস করেন। এখন রেজাউল করিম তার এসএসসি সার্টিফিকেট বের হওয়ার আগেই চুক্তি অনুযায়ী তার বাবা-মায়ের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংশোধন করার জন্য প্রধান শিক্ষককে তাগাদা দিলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অন্যের ঠিকানা ও পরিচয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া রেজাউল অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক তাকে ভুল বুঝিয়ে এই অন্যায় কাজে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
সূত্রে জানা গোছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সাদ্দাম সুস্থ হয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গেলে লোকমুখে শোনে সাদ্দাম পনরীক্ষা না দিয়েই পাস করেছে।
অন্যরদিকে, ৩ বছর পর রেজাউল করিম এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেও প্রধান শিক্ষকের প্রতারণায় পড়ে এখন সে দিশেহারা।
এ ব্যাপারে বাকাইসিদ্ধি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি উকিল উদ্দীন জানান, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। দুই ছাত্রই সার্টিফিকেটের দাবি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে যাচ্ছে।
এদিকে, প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোযের চেষ্টা করলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ সময়: ০০০১ ঘণ্টা, জুলাই ৩০, ২০১২
সম্পাদনা: কাজল কেয়া/রোকনুল ইসলাম কাফী, নিউজরুম এডিটর