 |
জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের(জাবি) ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি’র প্রভাষক মুহাম্মদ রুহুল আমিন খন্দকার গত ১৩ আগস্ট শনিবার সন্ধা ৭টা ৪০ মিনিটে ফেসবুকে তার নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করেন।
এ ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। এরই পরিপেক্ষিতে রোববার ই-মেইলে বাংলানিউজের এ প্রতিবেদককে প্রবাসে থাকা জাবি প্রভাষক রুহুল আমিন ই-মেইল যোগাযোগের মাধ্যমে তার বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তব্যে তিনি যা লিখেন তা নিচে তুলে ধরা হল।
‘গত বুধবার রাতে আমার কয়েকজন সহকর্মী আমাকে ফোন করে আমার ফেসবুক প্রোফাইলে শেয়ার দেওয়া একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কথা জানালেন। অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদগুলো পড়ে আমি হতভম্ভ হয়ে যাই।
বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে আমার বক্তব্যটি ছিল এরকম- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনিরের অকাল মৃত্যুতে আমরা কী হারালাম তা নতুন করে বলার কিছু নেই। যেদিন তাঁরা নিহত হলেন, সেদিন সাহরী খাবার পর আমি প্রথমআলো পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে খবরটি প্রথম দেখি। বিস্তারিত জানার জন্য অন্যান্য পত্রিকাও দেখি। দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যাই, মূল খবরের নিচে পাঠকদের শত শত মন্তব্য পড়তে থাকি। পরে আবেগের বশবর্তী হয়ে ওইসব মন্তব্য থেকে একটির অংশবিশেষ সংকলন করে আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিই।
আপনারা চাইলে মন্তব্যগুলো দেখে নিতে পারেনঃ
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-08-14/news/178043
এখানে আমি দ্ব্যার্থহীন ভাবে বলতে চাই, ফেসবুকের উক্ত স্ট্যাটাস দ্বারা আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কোনওররূপ ব্যক্তিগত আক্রোশ বা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর চেষ্টা করিনি এবং তার প্রতি আমার হেন কোন ব্যক্তিগত আক্রোশ বা ক্ষোভ নেই। উক্ত দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্রেফ সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াগুলো আমি বন্ধুদের শেয়ার করতে চেয়েছি। সুতরাং এটাকে নিজের অভিমত বলে চালিয়ে দেবার অপচেষ্টা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা মাত্র। স্বায়িত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তারপরও যদি উক্ত স্টাটাস কারো সামাজিক বা রাজনৈতিক অনুভূতিতে আঘাত হেনে থাকে তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। উক্ত স্ট্যাটাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি দেখে আমি অনুধাবন করতে পেরেছি- কোনও রাষ্ট্রের সম্মানিত ব্যাক্তিদের নিয়ে এরুপ মন্তব্য শেয়ার করা উচিৎ নয়।
উল্লেখ্য, এখনকার যুগে একথা বলা নিতান্তই বাতুলতা যে, ফেসবুক কোন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা নয়। এখানে মন্তব্যগুলো কেবল তারাই পাঠ করতে পারবে যাদের আমি সে অধিকার দিয়েছি এবং যারা আমাকেও অনুরূপ স্বাধীনতা দিয়েছে। অর্থাৎ বন্ধুমহলের কয়েকজন ব্যক্তি মাত্র। ফেসবুকের ওয়াল একজন ব্যবহারকারীর একান্তই ব্যক্তিগত একটি প্লাটফরম, যেখানে সবাই সমসাময়িক তথ্য ও অনুভুতিগুলো বন্ধুদের সাথে বিনিময় করে থাকেন। কোনও অবস্থাতেই এটি প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য ধারণ করে না। কাজেই এটিকে জাতীয় পর্যায়ে বড় করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। যদি কেও সে চেষ্টা করে, তাহলে ধরে নেয়া যায় এটি তাদের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা প্রপাগান্ডা মাত্র। আমার অতীতে কোনও রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না, বর্তমানেও নেই। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে অনেক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গেছে। এখানেই এর পরিসমাপ্তি ঘটবে বলে আমি আশা করি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধা ৭টা ৪০ মিনিটে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি’র প্রভাষক মুহাম্মদ রুহুল আমিন খন্দকার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার ফল: সবাই মরে, হাসিনা মরেনা কেনো?’ মুহাম্মদ রুহুল আমিন খন্দকার ২০০৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি বিভাগে অস্থায়ী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৯০৮ ঘণ্টা, ২১ আগস্ট, ২০১১