ঢাকা: বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ এখন বাড়িতে বসে অফিস করছেন। বলাকা ভবনে অবাঞ্ছিত হলেও পরাক্রমশালী এই চেয়ারম্যান ঘরে বসেই কলকাঠি নাড়ছেন বিমানের। আর এ কাজে তাকে সাহায্য করছেন ‘চেয়ারম্যানের পঞ্চপাণ্ডব’ নামে খ্যাত পাঁচ কর্মকর্তা।
ন্যাশনাল ক্যারিয়ার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একাধিক সূত্র এ কথা জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, মূলত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিমানের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বৈমানিকদের আন্দোলনের পর থেকে তিনি ঘরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। গত মার্চ মাস জুড়ে জামাল উদ্দিন বিরোধী আন্দোলনে বিমান ছিল উত্তাল। জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে, তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে , তার কুশপুতুল পুড়িয়ে বলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয় তাকে। পরে বিমানের ফ্লাইটে উঠে নাজেহাল হন কর্মীদের হাতে। পরিবার পরিজন নিয়ে সফরে যেতে নিজ অর্থে বিমানের টিকেট কিনতেও বাধ্য হন তিনি।
সূত্র জানায়, প্রায় দেড় মাস সময়ে বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকায় এক দিনের জন্যও ঢুকতে পারেননি জামাল উদ্দিন।
বিমানকর্মীরা জানান, বিমানের চেয়ারম্যান আন্দোলনের আগে নিয়মিত অফিস করতেন। তার জন্য বিশাল একটি কক্ষ রয়েছে। এখানে বসে তিনি বিমানের কর্মীদের পদোন্নতি, বদলিসহ দৈনন্দিন সব কাজে হস্তক্ষেপ করতেন। নিয়মানুযায়ী এয়ারলাইন্সের দৈনন্দিন কাজে তার হস্তক্ষেপ করার কোনো এক্তিয়ার তার নেই। কিন্তু নিজের প্রভাব বলয় তৈরি করতেই তিনি দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ কর্মীদের।
বিমানের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাকীউল ইসলামকে পদত্যাগ করিয়ে নিজের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করেন জামাল উদ্দিন। এ সময় বিমানমন্ত্রী ফারুক খানও আন্দোলনে হস্তক্ষেপ করেন। এ অবস্থায় বিমানের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হলেও নতুন করে কিছু সঙ্কটের জন্ম হয়।
সম্প্রতি কোম্পানি সচিব ফজলুর রহমান ‘বিমানের লোকসানের জন্য এর কর্মীরা দায়ী’ মন্তব্য জুড়ে দিয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠান। এতে ক্ষুব্ধ কর্মীরা ফজলুর রহমানকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন। আর সর্বশেষ এসব ঘটনা বিমান চেয়ারম্যানকে আরও বেকায়দায় ফেলে দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান অফিসে না এলেও বিমানের গাড়ি, বাড়িসহ সব ধরনের সুবিধাই নিচ্ছেন। তার জন্য দুটি গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে। বাড়িতেই কাটছে তার ব্যস্ত সময়। সেখানে বসে সবকিছুর কলকাঠি নাড়ছেন তার পঞ্চপাণ্ডবদের মাধ্যমে।
সূত্রটি জানায়, বিমানের প্রশাসনিক পরিচালক রাজপতি সরকার, ফ্লাইট অপারেশন পরিচালক ক্যাপ্টেন ইশরাক, জিএম (নিরাপত্তা) মমিনুল ইসলাম, ফার্স্ট অফিসার নজরুল ইসলাম ও আরেকজন জিএম পদ মর্যাদার কর্মকর্তা নিয়মিত চেয়ারম্যানের বাড়িতে যাতায়াত করছেন। চেয়ারম্যান ডেকে পাঠালে অফিস চলাকালেই এরা কাগজপত্র নিয়ে চলে যান চেয়ারম্যানের বাড়িতে। এরই মধ্যে তারা `চেয়ারম্যানের পঞ্চপাণ্ডব` বলে পরিচিতি পেয়েছেন।
এরাই চেয়ারম্যানকে জানাচ্ছেন কোথায় কে কি করছে, তার বিরুদ্ধে কে বা কারা কাজ করছে। আর তিনি বিরুদ্ধবাদীদের শায়েস্তা করার নানা নির্দেশনা এই পঞ্চপাণ্ডবকে দিচ্ছেন বাড়িতে বসেই।
এ বিষয়ে সাবেক বিমানমন্ত্রী ও বর্তমানে বিমান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, অফিসে না গিয়ে চেয়ারম্যানের কাজ করাটা অস্বাভাবিক।
তার মতে, জামাল উদ্দিন আহমেদসহ বিমানের পরিচালনা পর্ষদ যেসব সিদ্ধান্ত নেবে এবং তা বাস্তবায়ন করবেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক-এটাই হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ সময়: ০৯৩৭ ঘন্টা, জুন ২৪, ২০১২
আইএইচ/এমএমকে- menon@banglanews24.com;