 |
ঢাকা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বাংলা সাহিত্যের অপরাজেয় কথাশিল্পী। তার অন্যতম সৃষ্টি ‘দেবদাস’ ও ‘শ্রীকান্ত’। কালোত্তীর্ণ এ দুই উপন্যাস রচনারই সময় ১৯১৭ খ্রিস্টসাল। আর মাত্র পাঁচ বছর পরই শতবর্ষ পার হবে দেবদাস-শ্রীকান্তের।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের ধ্যান-ধারণা, ভাললাগা সবই বিবর্তিত হয়। বিবর্তিত হয় সাহিত্যের আবেদনও। তবে ঈর্ষণীয়ভাবে যেসব সাহিত্য ও শিল্পকর্ম যুগের পর যুগ শিল্প-সাহিত্যানুরাগীদের মনকে আন্দোলিত করে আসছে –নি:সন্দেহে ‘দেবদাস’ ও ‘শ্রীকান্ত’ সেই তালিকায় অগ্রভাগে বিবেচিত হবে। এ যেন চির আধুনিকতার অবিস্মরণীয় দুই দৃষ্টান্ত।
শনিবার ওই দুই চির আধুনিক উপন্যাস ও চরিত্রের জনক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৩৭তম জন্মদিন।
১৮৭৬ সালের এ দিনে তিনি জন্মেছিলেন ভারতের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে। ব্যক্তি জীবনে চরম আর্থিক দৈন্যতায় এফএ ক্লাসে ভর্তি হয়ে ছেদ পড়ে পড়াশুনায়। দারিদ্রের এই কষাঘাত শাপে বর হয়ে আসে শরৎবাবুর জীবনে। এই দু:খকে উপজীব্য করেই একের পর এক অসাধারণ সব সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি করতে থাকেন তিনি।
উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, প্রবন্ধ-সাহিত্যের এসব উল্লেখযোগ্য শাখায় শরৎচন্দ্রের বিচরণ খুবই স্বচ্ছন্দ ও স্বকীয়তায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে অর্ধশত চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। কালজয়ী উপন্যাস ‘দেবদাস’ প্রকাশিত হয়েছে বাংলা, হিন্দি ও তেলেগু ভাষায়। এখনও প্রায় প্রতি দশকেই এ কাহিনী নিয়ে সিনেমা-নাটক তৈরি হয় ভারত-বাংলাদেশে।
ভূপেন হাজারিকার গানের আবেদনময় অনুষঙ্গ হয়ে শরৎবাবুর ছোটগল্পের তিন চরিত্র মহেশ, গফুর ও আমিনার জীবন সংগ্রামের মর্মস্পর্শী কাহিনী আজও মুখে মুখে ফেরে মানুষের।
শরৎচন্দ্রের অন্যান্য উল্ল্যেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে উপন্যাস- বড়দিদি, বিরাজ বৌ, বৈকুণ্ঠের উইল, শ্রীকান্ত, চরিত্রহীন, গৃহদাহ, পথের দাবী, দেনাপাওনা, বিপ্রদাস ইত্যাদি। নাটকের মধ্যে ষোড়শী, রমা, বিজয়া অন্যতম।
উপন্যাসের পর ছোটগল্পেও অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন শরৎচন্দ্র। ছোটগল্পের মধ্যে রামের সুমতি, বিন্দুর ছেলে, মেজদিদি, বিলাসী, মহেশ, সতী, অনুরাধা উল্লেখযোগ্য। শরৎচন্দ্রের প্রবন্ধ সাহিত্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সাহিত্য ও নীতি, সাহিত্যে আর্ট ও দুর্নীতি, শিক্ষার বিরোধ, স্বদেশ ও সাহিত্য, তরুণের বিদ্রোহ।
১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী এই কথাশিল্পী লোকান্তরিত হন।
বাংলাদেশ সময়: ২১০২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১২
এআই/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর