শস্যের গন্ধ আর চুলের সুবাস
পৃথিবীর কোন প্রদেশে আজকে কোন সিজন? আকাশের নাম কি বা মাটির কোন জরা? কিচ্ছু না জেনেই বাতাসের কাছে আশা করা শস্যের গন্ধ আর চুলের সুবাস? আমি পড়িনি বিশ্বখ্যাত লেখক, দেখিনি মনস্টার রূপসী নায়িকা; শুনিনি সঙ্গীত, ক্লাসিক।
স্ত্রীলিঙ্গ করিনি সম্ভোগ, জয় করা প্রেমের শরীর ভেবে বন্ধুর সঙ্গে ঘটাইনি বিচ্ছেদ; আমি কোনো মহাভারত, কোনো মহাদেশ ভ্রমণ করিনি, স্পর্শ করিনি মদ। অমরতার জন্য নিজেকে বাজাতে শিখিনি, আমি রাত জেগে-জেগে কামনা করিনি নীল মৌচাক। গ্রন্থকীট নই, গড়ে তুলিনি পুস্তকপাহাড় আমি সঞ্চয় করছি, কেউ বিশ্বাস করবে না, আমার ভেতর একটি পাহাড়, গাছে গাছে বুনো, আমাদের বাড়ি থেকে দেখা যায় সবুজ স্থাপনা, দাঁড়িয়ে আছে ইন্ডিয়ার বোর্ডর ঘেঁষে শান্ত, উপরে শান্তি ও আকাশ, শৈশব দূর থাকে, অনেক দূর।
একশ একটি প্রেমের স্মৃতি নিয়ে গর্বিত বা বেদনার্ত নই। খেয়ে পরে টিকে থাকবার যে-জীবন তার গায়ে এঁকে দিইনি নারী ও জোনাকি; তাই বলে তোমার জন্য আমার পুরুষ মন কখনও কাঁপেনা, বলা ঠিক নয়। কাঁপে এবং থেমে যায়। মাঝে মাঝে জ্বর আসে কিন্তু আমি কোনও কারণে আত্মহত্যার জন্য প্রস্তুত নই। জানি এখন পৃথিবীর দেশে দেশে কোনো বিশেষ মৌসুম নেই। কেবল একটি যুদ্ধ আছে, মানুষের দিনযাপনের যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে শহিদ হচ্ছি কি না জানি না, জানি, একজন কবি এ-মুহূর্তে পৃথিবীর অত্যন্ত জরুরি।
২.
আমি কি খ্রিস্ট, যে তোমাকে মা করবো একা; বন্ধুর ছুরিকার জোরে বিধ্বস্ত হবার জন্যও প্রস্তুত না। আমার শরীর রুটি করে বিলিয়ে দিতে পারি না, পারি না আমার রক্ত দিয়ে কারও পিপাসা মেটাতে। র্যাঁবোর মতন আশা করতে পারি না, ‘একদিন সব মহিলা কবি হয়ে যাবে’। মেয়েদের কাব্যপ্রতিভা নেই, বলছিনা। তবে তারা একচু হরিণীর মতো বড়ো বেশি মনোরম এবং কলঙ্কপ্রবণ, বিশ্রী লাগে। মেঘের পাশ দিয়ে আরেকটি মেঘ যেমন করে চলে যায় কথা বলে বলে, ধীরে, তেমনি স্বাভাবিক হতে বলছি; শোনো। কোনো কথাই ফেলনা নয়। যে-পাগল ‘চলে এসো চলে এসো’ বলে ঝরিয়ে দিলো মেঘ আর ঘটিয়ে দিলো বৃষ্টি পৃথিবী, তার কাছেও তোমার কিছু দায় থাকা চাইছি। রাখো। এই বিহ্বল কথার মাঝে রোমান্টিক আবেগ খুঁজে পেলে নিজভাষে ভেবে নাও, কেনো তুমি কাঁদবে এবং আমাদেরই জানতে হবে অন্য লোকের বেদনা-বোধন; আমি সামর্থবান নই, যেমন থাকেন মহা পুরুষের দল। কিন্তু কৃপণ কৃষকের মত শস্য জন্মাতে চাই, চাই পুত্র সন্তান। হৃদয়ে গান চাই এবং একসরিষা পরিমাণ হলেও জীবনে প্রেম চাই।
যে কোনো প্রকার প্রেম।
সমবয়সী মিথ
বৃষ্টির মতন বেঁকে তৈরি করেছিলে যে-অঙ্গসুষমা, আমি তাতে ভিজতে গিয়ে ব্যর্থ, ফিরে আসছি বরফরাজ্যের দিকে। শীতের দিকে চলে যাচ্ছে মন, বৃষ্টিবিহীন মহাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে শরীর; আর জমে যাচ্ছে, শ্বাশত বরফের সঙ্গে ভোগ করছে ঠাণ্ডা, ধূমায়িত হিম তুমি, মুক্তি চাও আকাশের মেঘে। অন্ধের চোখে এক অঙ্গ সুষমা রেখে অনঙ্গ হয়ে আছো কবে! জলে যাবার সুযোগ রয়েছে আমার, রয়েছে মেঘে ঝরাবার অধিকার; বাঁকা বৃষ্টির পতনে তুমি ফেলবে না ছায়া, সূর্য-আগল, খেয়ে নিয়েছে জানি সূর্যের ঈর্ষা তোমাকে; স্মৃতিধারা মেঘ হবে, জল হবে মাটির পাতালে, মেটাবে মনের শপথ, ধুয়ে যাবে ঘুম, দাঁতে জমে থাকা আলস্য খেয়ে জল হবে জলের পুত্র।
আর মেলবে না ডানা, বাতাসে ভাসাবে না দেহের জ্যামিতি, উড়াল।
দুইজন দিদিমণি
দিপালী দিদিমণি এখনও বিয়ে করেননি। তাই বলে তাকে চিরকুমারী অপবাদে আমি লজ্জিত করিনি। আমি তাকে শিশুদের অপসেট ঝকঝকে প্রতিভার ওপর একটি রঙিন ফুল এবং ফুলে একটি ভ্রমর এঁকে দিতে বলি। এবার শীতের কুয়াশায় দিপালী মণিকে হাঁটিয়ে আনবো রুপালি সকাল। এবং উলেন জাম্পারে প্রজাপতি বসিয়ে তাকে সত্যিকারের ফুল বানিয়ে ছাড়বো নিশ্চিত।
আমি তার ছাত্র এবং আজকে প্রেমিক?
২.
মসলিন শাড়ি পরে, সমাজ শেখাতে, এসেছিল নদী;
মানুষ তার সমাজজ্ঞান এক ফোঁটাও গ্রহণ করিনি।
মুখস্ত করেছে ঢেউ, স্বতশ্চল গতি।
ঢেউগুলো নিথর হলে, চলে যায় সুগঠিত মৃত্যুর কাছে?
খবরে পড়েছি তুমি খুন হয়েছ; করেছে সেই পতি, যাকে দিয়েছিলে মৌলিক ক্লান্তি ও স্মৃতি!
আনন্দের মৃত্যু হলে কালো হয় জনতার মন। কবিজন লিখতে থাকে: স্বপ্নের বিপরীত মেরুতে থাকে নদীর যৌবন।
আমরা ভোগ করি মেঘের চলন, বৃষ্টিস্পর্শন।
বাংলাদেশ সময়: ১৭৩০ ঘণ্টা, ০৩ অক্টোবর, ২০১২