 |
ঢাকা: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৬তম জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন।
এবারের জন্ম দিনে শেখ হাসিনা দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি গত ২২ সেপ্টেম্বর তিনি জাতি সংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক গেছেন। আগামী ২ অক্টোবর তার দেশে কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতি বছরই শেখ হাসিনার জন্মদিন কাটে দেশে বাইরে। প্রতি বছরই সেপ্টেম্বরের এই নির্ধারিত সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন বছর হলো আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার জন্মদিন নিউইয়র্কে কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটাচ্ছেন। এ বছরও তার জন্ম দিন কাটছে দেশের বাইরে।
রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে শেখ হাসিনা ছাত্রজীবন থেকেই প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের সক্রীয় কর্মী ছিলেন এবং ইডেন কলেজের নির্বাচিত সহ-সভাপতি(ভিপি) ছিলেন।
শেখ হাসিনা ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যের স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
শেখ হাসিনা ১৯৬৮ সালে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই সন্তান ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর প্রথম সন্তান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন জার্মানিতে অবস্থান করায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।
এরপর তিনি জার্মানি থেকে ভারতে আসেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে ভারত থেকে দেশে ফেরেন।
ভারতে অবস্থানকালে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে তার অবর্তমানেই দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন।
এরপর থেকে টানা ৩১ বছরের বেশি সময় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা হয়ে ওঠেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
এই সময়ে তার নেতৃত্বে দুই বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে এবং তিনি দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিন বার তিনি বিরোধীদলের নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
দেশে ফেরা পর শেখ হাসিনা স্বৈরাচারবিরোধী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে বার বার তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি হন। তাকে লক্ষ্য করে গুলি, বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য তাকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার কানের শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গ্রেনেড হামলায় ঘটনাস্থলেই আওয়ামী লীগের ২৩ জন নিহত হয়, আহত হয় অসংখ্য নেতাকর্মী। গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী আইভি রহমান তিন দিন পর মারা যান।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনা কারা নির্যাতন ভোগ করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ২০০৭ সালে ১৬ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। এই দিন ভোরে তার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন থেকে গ্রেফতার করে সাব জেলে রাখা হয়। টানা প্রায় ৭ মাস তিনি কারাবন্দি ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে দুই দুই বার সরকারপ্রধান ও তিনবার বিরোধীদলের নেতাসহ আন্তর্জাতিকভাবে নানা পুরস্কার ও সম্মানসুচক ডিগ্রিতে ভূষিত হন শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপ্রধান পদক, রোটারি ফাউন্ডেশনের পল হ্যারিস ফেলোশিপ, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, সাউথ সাউথ পুরস্কার, ইউনেস্কোর পার্ল এস বাক পদক, মাদার তেরেসা পদক, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস স্মৃতিপদক এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সৃজনশীল লেখালেখির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত হন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে কর্মব্যস্ত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি বেশ কিছু গ্রন্থও রচনা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ: কিছু চিন্তাভাবনা, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র: লাঞ্ছিত মানবতা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সহে না মানবতার অবমাননা ইত্যাদি।
শেখ হাসিনার ৬৬তম এই জন্মদিন উপলক্ষে তার অনুপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৯১৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১২
এসকে/আরআর