 |
ঢাকা: মজার মজার সব গল্প, ছড়া, কবিতা, কার্টুন, চোখ ধাঁধানো আঁকাবুকি-আলোকচিত্র আর শিশু-কিশোরদের খবরসহ মনকাড়া সব বিষয়-বৈচিত্রে নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে ছোটদের পত্রিকা ‘মাসিক কিশোরচিত্র’। শিশুরাই এই কিশোরচিত্রের লেখক ও পাঠক। তাই নজরকাড়া এ কিশোরমাসিক শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সিঁড়ি হয়ে উঠেছে যেন।
কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত হলেও এই ট্যাবলয়েট পক্রিকাটি রাষ্ট্রীয় সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে জাপান ও ভারতের প্রবাসী বাংলাদেশি শিশুদের হাতে। দেশের শিশুদের পাশাপাশি জাপান ও কলকাতার শিশুরাও এ কাগজে নিয়মিত লিখছে।
পত্রিকা হলো জ্ঞানের আধার। আর শিশু-কিশোরদের জ্ঞানচর্চা বাড়াতে তাদের মানসিকতার আদলেই সাজানো হচ্ছে কিশোরচিত্রের প্রতিটি পাতা। প্রতিটি বিভাগে রয়েছে শিশুমনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আকর্ষণীয় বিষয়, স্বপ্নবুননের নানা আয়োজন।
১৬ পৃষ্ঠার এ পত্রিকার রকমারি বিভাগগুলোতে রয়েছে ছোটদের গল্প, কবিতা, ছড়া, আঁকাআঁকি প্রবন্ধ-নিবন্ধ এবং উপদেশ ও শিক্ষামূলক নানা রচনা। ছোটরা এগুলো লিখে ও পড়ে জ্ঞান অর্জন যেমন করছে, তেমনি রাখছে নিজ নিজ প্রতিভার স্বাক্ষর।
কিশোরচিত্রের অঙ্কন বিভাগে রয়েছে তুলির আঁচড়ে ছোটদের আঁকা চোখ ধাঁধানো রঙিন ছবি। মজার মজার লেখা নিয়ে রয়েছে ‘কিশোর সাহিত্য: গল্প’ বিভাগ। বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিষয়ক নানা তথ্য নিয়ে ‘প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও পরিবেশ’ বিভাগ ছাড়াও রয়েছে রোমাঞ্চকর রহস্য ও ভ্রমণ বিষয়ক লেখা। ‘স্বপ্ন তরুর কাননে’ বিভাগে রয়েছে শিশুদের খেলা বিষয়ক নানা সংবাদ।
এছাড়া রয়েছে মুখোমুখি বিভাগ। যেখানে শিশুরাই সাংবাদিক, শিশুরাই সাক্ষাৎকারদাতা। কিশোর সংবাদ নিয়ে নানা খবর তো আছেই।
কিশোরচিত্রের মে সংখ্যায় প্রথম পৃষ্ঠায় বাংলা বর্ষবরণ নিয়ে ছাপা হয়েছে ছোট শিশুদের চমকপ্রদ ছবি ও লেখা। এ সংখ্যায় রয়েছে মে দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের গল্প ও প্রবন্ধ। শিশুশ্রম নিয়ে শিশুদেরই উপদেশমূলক নানা দিক। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল জন্মদিবস, বসন্ত নিয়ে প্রবচনগুচ্ছ স্থান পেয়েছে এ সংখ্যায়।
মানচিত্র পাবলিশার্স বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক প্রবীর বিকাশ সরকার। প্রবন্ধকার হিসেবে যার পরিচিতিও অনেক।
ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই গবেষক বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মাতৃভাষা চর্চার পাশাপাশি শিশুদের মনোদৈহিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রতিভা বিকশিত করতে প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ। পড়াশুনা, লেখালেখি, আঁকাবুকি ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা এ সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে। আর সেই চিন্তা থেকেই কিশোরচিত্র প্রকাশের উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাড়াও জাপানে দু’শ’ কপি এবং ভারতের কলকাতায় একশ’ কপি কিশোরচিত্র পাঠানো হচ্ছে। সেখানকার স্কুলগুলো থেকে বাংলাদেশি শিশুরা এ পত্রিকায় লিখছে। পাশাপাশি জাপানী শিশুরাও লিখছে জাপানী ভাষায়। সেগুলো জাপানী ভাষার পাশাপাশি বাংলায় অনুবাদ করে ছাপা হচ্ছে।’
কিশোরচিত্র প্রকাশের সূচনা প্রসঙ্গে প্রবীর বিকাশ সরকার বলেন, ‘১৯৮৪ সালে ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে একটি শিশুতোষ পত্রিকা করার চিন্তা শুরু হয়। তা থেকেই এরুপ একটি পত্রিকা প্রকাশ করার চিন্তা নিয়ে সেখানকার বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া মেলে।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশে মার্ভাষা চর্চার সুযোগ নেই। কিশোরচিত্রের লেখালেখির মাধ্যমে ছোটদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং একই সঙ্গে বাংলা ভাষা বিশ্বের দরবারে আরও মর্যাদা পাবে।’
তিনি জানান, ২০০৭-২০০৮ সালে পত্রিকাটির কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। গত বছর তিনটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। সে সময় ডিক্লারেশন পাওয়ার পর এবছর মে মাসে প্রথম অনুমোদিত সংখ্যা প্রকাশ হলো। এখন থেকে নিয়মিত এটি প্রকাশ হবে।
তিনি আরো জানান, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্কুল থেকে প্রচুর লেখা পাওয়া যাচ্ছে। ভাল লেখার জন্য পুরষ্কার হিসেবে ৫শ’, ৩শ’ ও ২শ’ টাকার প্রাইজবন্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ উদ্যোগ আসলে শিশুদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করার প্রয়াস।
জাপানী ও বাংলাদেশি ক’জন বন্ধুর যৌথ অর্থায়নে শিশুবান্ধব এ উদ্যোগ দিন দিন পরিণত হয়ে উঠছে জনিয়ে প্রবীর বিকাশ সরকার বলেন, ‘ভবিষতে শিশু-কিশোররাই যাতে পত্রিকাটি সম্পাদনা করে সে লক্ষে কাজ করছি।’
বাংলাদেশ সময়: ১২২৯ ঘণ্টা, জুন ২৪, ২০১২
এমআইএইচ/এআর/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর