 |
নয়াপল্টন থেকে: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘সংবিধানই আজ আসামির কাঠগড়ায়, বিচার আশা করছে। সংবিধান তার পূর্ণ অধিকার চাইছে। একে স্বাধীনতা দিতে হবে। আমাদের মাথা উঁচু করতে হবে। আমাদের সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।’
মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
তরিকুল বলেন, ‘জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে সরকার স্বৈরাচারী হয়। এ সরকার স্বৈরাচারী হয়ে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই এ সরকারকে উৎখাত করতে হবে।’
‘আন্দোলনের মাধ্যমে কারাগার থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোট নেতাদের সবাইকে মুক্ত করে আনা হবে’ ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘এ সরকারকে উৎখাত করা হবে। এজন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন বজায় রাখতে হবে।’
মূলত যুবদল সেক্রেটারি সাইফুল আলম নিরবসহ কারান্তরীণ যুবনেতা এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন ও রফিকুল আলম মজনুর মুক্তির দাবিতেই যুবদল এ বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে।
এর পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোট নেতাদের মুক্তি, নিখোঁজ ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেওয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ অন্যান্য সমসাময়িক প্রসঙ্গও বিক্ষোভের অন্যতম ইস্যু হিসেবে থাকে।
সভাপতির বক্তৃতায় নেতাদের মুক্তির দাবিতে ২৪ মে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও ২৬ মে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘নীরব-জাহাঙ্গীর-মজনু শিগগিরই আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। আমাদের সে আন্দোলনই করতে হবে। আশা করি পরবর্তী কর্মসূচিতেই তাদের আমাদের মাঝে পাবো।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল নেতারা ভয়ে ঠাণ্ডা হয়ে যাননি। তারা আপনাদের মতো (?) লোকের সামনে আসতে লজ্জা পাচ্ছে।’
যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘শেখ হাসিনার কবল থেকে আমাদের নেতাদের মুক্ত করে আনতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।’
বিএনপি বিরোধীদের সমালোচনা করে অপর যুগ্ম-মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘এতো নেতা গ্রেফতারের পর বিএনপিতে নেতা কোথায় বলে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের জানা দরকার- বিএনপিতে নেতাকর্মীর অভাব নেই। আমরা সব দাবি আদায় করে নেবো।’
এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু তার বক্তৃতায় ‘শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন’ বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী খোকন, মোরতাজুল করিম বাদরু, সেলিমুজ্জামান সেলিম প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৩ ঘণ্টা, মে ২২, ২০১২
সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর