 |
ঢাকা: দলছুট, সুবিধাবাদী ও সুযোগ সন্ধানীরা রাজনৈতিক তৃতীয় শক্তি হিসেবে উদ্যোগ নিলে তা হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। অতীতেও তৃতীয় শক্তির কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তা টেকেনি।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে পরিবেশ ও বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
সম্প্রতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ নিজেকে তৃতীয় শক্তির দাবি করেন। এছাড়া বিভিন্ন মহল থেকে তৃতীয় শক্তির প্রয়োজনের কথা বলা হয়। এসবের প্রেক্ষিতে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃতীয় শক্তি আলোচনায় স্থান পায়।
এসব বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “গণতন্ত্র চর্চায় তৃতীয় শক্তি সৌন্দর্য্য বাড়ায়। তবে সাইড লাইনে বসে বক্তব্য না দিয়ে মাঠে নামলে সৌন্দর্য আরো বাড়বে।”
মন্ত্রী ‘‘গণতন্ত্রের অব্যাহত অগ্রযাত্রার বিশ্বাস করি’’ উল্লেখ করে বলেন, “আমি আশা করবো, তৃতীয় শক্তি হিসেবে যে উদ্যোগ, তারা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে না যান।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি (ওয়ান ইলেভেন) তৃতীয় শক্তি তা কেন্দ্রীভূত ছিলো না। বর্তমানের চেষ্টাও সে রকমই মনে হয়। বর্তমানেও বলা হচ্ছে, নানাভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক কতোটা ভালো এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমেরিকার সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক দৃঢ়। জঙ্গিবাদ দমনে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি। তারা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) সহযোগিতা করেছে, আমরা সফল হয়েছি।”
জলবায়ু তহবিল সংগ্রহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “জলবায়ু তহবিলে তারা ১৩ মিলিয়ন জলার দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্নভাবে তারা সহযোগিতা দিয়ে আসছে।”
খাদ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অসন্তোষ কিংবা আমাদের প্রতি বিরূপ কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “খাদ্যমন্ত্রী বর্তমান কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলেননি। অতীতের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তা ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে বলেননি। বিশ্বব্যাংকের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।”
পদ্মাসেতু প্রকল্পে অর্থায়ন প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “সরকার পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করবে। যদি কেউ এ প্রকল্পের অর্থায়নে অংশ নিতে চায়, তাহলে নেবে। সরকার বণ্ড ছাড়বে, স্থানীয়ভাবে অর্থায়নের চেষ্টা করবে। এছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থ পেতে চেষ্টা করবে।”
হাছান মাহমুদ বলেন, “সরকার যদি তিন বছর আগে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করতো তাহলে এখন সেতু নির্মাণ অর্ধেক বা শেষ পর্যায়ে থাকতো।”
তিন বছর আগের তুলনায় বাজেট আড়াইগুণ বেড়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “চলতি বাজেটে উন্নয়ন খাতে ৫৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী বছরে বরাদ্দ আরো বাড়বে।” আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন চুক্তি বাতিল করায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে, বাংলাদেশের জন্য নয়। দুর্নীতিতে নয়, দুর্নীতির আশঙ্কায় অর্থায়ন বন্ধ করেছে। এ নিয়ে বিশ্বব্যাংকই বিতর্কের মধ্যে পড়েছে।”
ভারতের দু’তিনটি প্রকল্পও বিশ্বব্যাংক বন্ধ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘‘জনগণের কাছে বিশ্বব্যাংক বিতর্কিত হয়েছে।”
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ নিয়ে জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “মহাজনের টাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণ না করে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করলে জনগণ বেশি সন্তুষ্টু হবেন।”
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণে সরকারের সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “এ সিদ্ধান্ত শুধু এ সরকারকে নয়, জাতিকে আত্মপ্রত্যয়ী করে তুলবে।”
বাংলাদেশ সময়: ২১৩০ ঘন্টা, জুলাই ০৯, ২০১২
এমইউ/সম্পাদনা: অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর