ঢাকা: উত্তর কোরিয়ার সেনাপ্রধান রি ইয়ং হো কে তার সব সরকারি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি উত্তর কোরিয়ার শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশন এবং একদলীয় শাসনে পরিচালিত দেশটির একমাত্র রাজনৈতিক দল ওয়াকার্স পার্টির শীর্ষ পদে আসীন ছিলেন।
ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরোর বৈঠকে রোববার তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ। তবে তার উত্তরসূরি কে হবেন তা পরিষ্কার করেনি সংবাদ সংস্থাটি। বিবৃতিতে বলা হয় অসুস্থতার কারণে রি ইয়ং হোকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উনের পিতা সদ্য প্রয়াত কিম জং ইলের আমলে রি ইয়ং হোকে সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। কিম জং ইলের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত এ সেনাপ্রধানকে নিয়মিতই বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তার পাশে দেখা যেতো।
কিম জং ইলের মৃত্যুর পর জমকালো রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের সময় তার পুত্র জুনিয়র কিমের পাশে থাকা উত্তর কোরিয়ার সাত শীর্ষ কর্মকর্তার মধ্যেও উপস্থিত ছিলেন রি ইয়ং হো।
কিম জংয়ের মৃত্যুর পর রিং ইয়ং হো তার পুত্রেরও ঘনিষ্ঠ বলয়ের অন্যতম প্রধান কুশীলবে পরিণত হন। উত্তর কোরিয়ার শাসন ক্ষমতায় তরুণ নেতা কিম জং উনের ক্ষমতার ভিত মজবুত করার ক্ষেত্রে তাকে অন্যতম কারিগর হিসেবে বিবেচনা করা হয় আন্তর্জাতিক মহলে।
তবে তার অপসারণের মাধ্যমে এই ধারণাই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে , কিম জং উন এখন তার চারপাশের বলয় থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে নিজের মতামত অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করতে চাচ্ছেন। এর মাধ্যমে অনেকটা দেশের দায়িত্ব নিজের হাতে গ্রহণ করলেন তিনি।
স্টালিনবাদী কমিউনিস্ট রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ায় সেনাবাহিনী এবং ওয়ার্কার্স পার্টিই মূলত ক্ষমতার দুই প্রধান ভিত্তি। এই দুই ভিত্তিকে কেন্দ্র করে দেশটিতে পরিচালিত হচ্ছে কিম পরিবারের শাসন তন্ত্র।
তবে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে, কিম জং উন তার পিতার আমলে কখনই আলোচনায় ছিলেন না, এমনকি প্রধান দু’টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কখনও কোনো দায়িত্বপূর্ণ পদে ছিলেন না তিনি। নিজের চারপাশে থাকা জেনারেল এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেশিরভাগেরই কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। এসব বিবেচনা করে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার রাজনীতিতে তার পথ চলা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ সময়: ১২৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০১২
সম্পাদনা:রাইসুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর