 |
| বিশ্বজিতের মরদেহের পাশে স্বজনেরা, ছবি: বাদল/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: সারাদেশে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের রাজপথ অবরোধ চলাকালীন ছাত্রলীগ কর্মীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে, বাসচাপা এবং ধাওয়া খেয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন জামায়াতকর্মী বলে জানা গেছে।
রোববার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় বাসচাপায়, সূত্রাপুর থানাধীন বাহাদুরশাহ পার্কের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ছাত্রলীগের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে এ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় সকাল ১০টা ১০ মিনিটে একটি দ্রুতগামী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে একজন মাটিকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম মংলা প্রামাণিক। তার বাবা জিকিন প্রামাণিক, দেশের বাড়ি নওগাঁর রানিরপাড়ায়। চাচাত ভাই আমিরুলের সঙ্গে টঙ্গীর আরিফপুর বস্তিতে থাকতেন।
এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) নিশারুল আরিফ বাংলানিউজকে জানান, পিকেটিং করার সময় একটি দ্রুতগামী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি মারা যান।

এদিকে, রাজধানীর বাহদুরশাহ পার্ক এলাকায় ছাত্রদলের কর্মী সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা বিশ্বজিৎকে ধাওয়া করে প্রথমে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ অবস্থায় একজন রিকশাচালক তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। এখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিএনপি বিশ্বজিৎকে নিজেদের কর্মী বলে করেছে। তবে পরিবার তা নাকচ করেছে।
রোববার বেলা সকালে রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় বাহাদুরশাহ পার্কের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
সকালে ওই এলাকায় ছাত্রলীগের একটি মিছিলে হামলা চালায় ছাত্রদলসহ ১৮ দলীয় জোটের লোকজন। পরে ছাত্রলীগ তাদের ধাওয়া দেয়। এতে বিশ্বজিৎ দাস দুই গ্রুপের মাঝখানে পড়ে যান। এসময় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়।
১২৩ শাঁখারিবাজারে বিশ্বজিতের একটি টেইলার্সের দোকান ছিল। সেখানে যাওয়ার উদ্দেশে তিনি বাসা থেকে বের হন। বিশ্বজিৎ থাকতেন ৫৩ ঋষিকেশ দাস লেনে। তার বড় ভাই উত্তম দাস, বাবা অনন্ত দাস।
উত্তম দাস জানান, সকালে টেইলার্সের দোকানে যাওয়ার উদ্দেশে তিনি বাসা থেকে হন। পথে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন তার ভাই।

এছাড়া সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকমীদের ধাওয়ায় এক জামায়াতকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
তবে পুলিশের ভাষ্য, জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মিছিল করতে গেলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জামায়াতের বয়স্ক ওই কর্মী মাটিতে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
জামায়াতকর্মীর নাম ওয়ারেছ আলী (৫৫)। বাড়ি এনায়েতপুর থানার জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে।
জামায়াতের দাবি, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দল ইচ্ছে করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের কর্মীকে হত্যা করেছে। বেলকুচি জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম সোহেল বাংলানিউজকে বলেন, যুবলীগ-ছাত্রলীগ ও পুলিশ ধাওয়া করে ওয়ারেশ আলীকে হত্যা করেছে।
তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান সিরাজ এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন।
তবে এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ওয়াহেদুজ্জামান বাংলানিউজকে পুলিশের ধাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে ধাওয়ায় জামায়াতকর্মী পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। পরে শুনেছি মারা যাওয়ার কথা। তবে লাশ দেখিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১২০৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৯, ২০১২
এমইএস/আরআর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর