 |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত তারকা রবি চৌধুরী চট্টগ্রামের আলোচিত-বিতর্কিত যুবলীগ নেতা মামুনুর রশিদ মামুনের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নগরীর কোতয়ালী থানার এম এ আজিজ স্টেডিয়াম এলাকায় চট্টগ্রাম ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।
রবি চৌধুরী বাংলানিউজকে মামুনের বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, “মামুনুর রশীদ মামুন আমার কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন। আমি দিইনি বলে তিনি আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। গত রাতে তিনি আমাকে একা পেয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেছেন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দাবি করে মামুনুর রশীদ মামুন বাংলানিউজকে বলেন, “রবি চৌধুরী আমার বন্ধু। তার সঙ্গে আমার আগে থেকেই হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক আছে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে আমি তার সঙ্গে দুষ্টামি করেছি। রবি আমাকে ভুল বুঝবে, সেটা আমি বুঝতে পারিনি।”
এ প্রসঙ্গে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানু বাংলানিউজকে বলেন, “মামুন যুবলীগের পরিচয় দেন। আসলে তিনি যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের সদস্য নন। তিনি দলীয় কোনো কর্মসূচিতেও আসেন না। তার ব্যক্তিগত কোনো অপকর্মের জন্য দল দায়ী হতে পারে না। মামুনের মতো একজনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
ঘটনা সম্পর্কে রবি চৌধুরী জানান, রাত ১টার দিকে তিনি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে চট্টগ্রাম ক্লাব থেকে বের হচ্ছিলেন। গেটে নিজের প্রাইভেটকারে ওঠার আগ মুহূর্তে মামুন রবি চৌধুরীকে ‘এই, এদিকে আয়’ বলে ডাক দেন।
মামুনের এ ধরনের আচরণে রবি চৌধুরী বিস্মিত হয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় মামুন নিজেই রবি চৌধুরীর সামনে এসে তাকে বিভিন্ন ধরনের অসংলগ্ন ভাষায় কথাবার্তা বলা শুরু করেন।
এর এক পর্যায়ে মামুন তার পকেটে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে বলেন, “এই, পকেটে কত টাকা আছে বের কর।” এ সময় রবি চৌধুরী পকেটে কোনো টাকা নেই বলে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মামুন।
এরপর রবি চৌধুরীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন ক্ষুব্ধ মামুন। এক পর্যায়ে তিনি রবি চৌধুরীর ওপর হাত তোলারও চেষ্টা করেন। কিন্তু রবি চৌধুরী হাত ধরে ফেললে মামুন তাকে ধাক্কা দেন। মামুন তাকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকিও দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন রবি চৌধুরী।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে মামুনকে সরিয়ে দেন এবং রবি চৌধুরী তার প্রাইভেটকারে চড়ে ওই এলাকা ত্যাগ করেন।
রবি চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, “মামুনুর রশিদ মামুনের আচরণে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমি কণ্ঠশিল্পী। আমি গান গেয়ে মানুষকে আনন্দ দিই। আমাকে এতটা অপমানিত হতে হবে, এমনটা আমি কখনও ভাবিনি। ইচ্ছে করছে, গানবাজনা ছেড়ে দিই।”
মামুনুর রশিদ মামুনের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রবি চৌধুরী। জিডি নম্বর ১৪৮৪।
জিডিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সময় মামুনুর রশিদ মামুন মাতাল অবস্থায় ছিলেন। এছাড়া মামুন তাকে পিস্তল বের করে হত্যার হুমকি দেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) সদীপ কুমার দাশ বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা শিল্পী রবি চৌধুরীর অভিযোগ গ্রহণ করেছি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব। এরপর আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেব।’
উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নগরীর বেসরকারি ওমরগণি এমইএস কলেজের নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশীদ মামুন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরও নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই সরকারের শেষদিকে চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণ কার্যালয়ে ঢুকে সাংবাদিক পিটিয়ে তিনি সমালোচনার ঝড় তুলেছিলেন। তার বিতর্কিত এ কর্মকাণ্ডের কারণে তৎকালীন সরকারও বেকায়দায় পড়েছিল। এরপর সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
বিগত বিএনপি সরকারের আমলে জামিনে মুক্তি পেয়ে মামুনুর রশীদ মামুন বিদেশে পালিয়ে যান। বর্তমান সরকারের আমলে মামুন দেশে ফেরেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মাঝে মাঝে অনুসারীরা তার নামে পোস্টার লাগালেও বর্তমানে মামুন ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৮ ঘণ্টা, আগস্ট ২৩, ২০১২
আরডিজি/সম্পাদনা: রানা রায়হান, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর
jewel_mazhar@yahoo.com