 |
| ছবি: নাজমুল হাসান/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
ঢাকা: পদ্ম সেতু প্রকল্পে অর্থায়নে আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে চ’ড়ান্ত প্রস্তাব দেবে মালয়েশিয়া। রোববার দেশটি কনসেশন এগ্রিমেন্ট জমা দিয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
যোগাযোগমন্ত্রী মালয়েশিয়ার দক্ষিণ এশিয়ার অবকাঠামো বিষয়ক বিশেষ দূত সামি ভেলুর সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন।
এর আগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনায় বসেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
রোবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে যোগাযোগমন্ত্রীর কক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়। সামি ভেলুর নেতৃত্বে বেঠকে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
প্রতিনিধি দলটি পদ্মাসেতু নির্মাণে মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য অর্থায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করবে।
গত ২৮ জুন মালয়েশিয়া পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে যে খসড়া প্রস্তাব দেয় তা নিয়ে বেঠক করেন সামি ভেলু। এর পর গত ১০ এপ্রিল মালেয়েশিয়ার কুয়ালামপুরে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন যোগাযোগমন্ত্রী।
বৈঠকের পর যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “জানুয়ারি থেকে আলোচনা চলছে পদ্মা সেতুতে বিকল্প অর্থায়ন নিয়ে। আমরা (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছি। আজ তারা কনসেশন এগ্রিমেন্ট জমা দিয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তাব দেবে।”
কনসেশন এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী নির্মাণের আগের ও পরের বিষয় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন যোগাযোগমন্ত্রী।
তাদের কনসেশন এগ্রিমেন্ট খতিয়ে দেখবো উল্লেখ করে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, “খুটিনাটি বিষয় পর্যালোচনা করবো। সন্ধায় ইফতারির সময় আলোচনা হবে। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তারা সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। এর মধ্যে আলোচনা চলতে থাকবে।”
পদ্ম সেতু নির্মাণ অর্থায়ন বিষয়ে কৌশলগত কারণে সব কিছু বলা ঠিক হবে না উল্লেখ করে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, “জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে কারিগরি দিক যাচাই বাছাই করে বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং শেষে মন্ত্রি পরিষদ সভায় পাঠানো হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিষয়টি অনুমোদন দিলে তাদের সঙ্গে চুক্তি হবে।”
জাতীয় স্বার্থ ও জনস্বার্থ রক্ষা করে তাদের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত চুক্তি হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন। অনেক বিষয় মেলাতে হবে; বলে ব্যাটে মিললে তারপরে চুক্তি হবে।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, “এ বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু করতে চেয়েছে তারা। এরকম আশ্বাস দিয়েছে।”
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে মন্ত্রিপরিষদ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা বাদ দেওয়া হচ্চে কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, “বাদ দেওয়া হবে না। কেউ অর্থায়ন করতে চাইলে আমরা তা না করবো কেনো।”
আমরা কোনো কিছুই বাদ দিইনি ও গ্রহণও করিনি উল্লেখ মন্ত্রী বলেন, “বিকল্প অর্থায়নের আলোচনা চলছে।”
পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থায়ন স্থগিত করে। এর পর যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ওবায়দুল কাদেরকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সবশেষে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিলের পর নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর ঘোষণা দিলেও সংস্থাটিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও বাদ দেয়নি সরকার। বিকল্প অর্থায়নের জন্য অন্যান্য ঋণদাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালাতে থাকে।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক ১২০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি করলেও পরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থায়ন স্থগিত করে। বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিলের পরও ঋণদাতা দুই সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) তাদের চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের পাশাপাশি এডিবি ৬১ কোটি, জাইকা ৪০ কোটি এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ছিলো। আর বাকি অর্থের যোগান দেওয়ার কথা ছিলো সরকারের।
অন্য একটি সূত্রমতে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের বিশাল নির্মাণযজ্ঞের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে এমন প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে কোনো একটি মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৬ ঘণ্টা, আগস্ট ০৫, ২০১২
আব্বাস/এসকেএস/এমএমকে; নূরনবী সিদ্দিক সুইন, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর; জুয়েল মাজহার, কনসালট্যান্ট এডিটর