 |
| ছবি: জাহিদ সায়মন |
ঢাকা: মাত্র একদিনের ব্যবধানেই পাল্টে গেছে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের চিত্র। গত কয়েক দিন ধরে চলা ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় আর ভোগান্তি নেই বৃহস্পতিবার। সকাল থেকে দু’একটি বিজনেস ক্লাস বাসের কাউন্টার ছাড়া ভিড় নেই কোনো বাস কাউন্টারেও।
শ্যামলী, হানিফ, ন্যাশনাল এবং এসআর পরিবহনে দুপুরে খানিকটা ভিড় দেখা গেছে। তবে গাড়ির জন্য আগে থেকে এসে বসে থাকা যাত্রীদেরই ভিড় ছিল বেশি।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন রুটের বিভিন্ন পরিবহনে ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। দুপুরে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের প্রায় ৩০ শতাংশ কাউন্টারই ছিল ফাঁকা।
গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের খালেক পরিবহন কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্তাজ আলী বলেন, “যাত্রী নেই। নেছা পেট্রোল পাম্পে অনেক গাড়ি গ্যারেজ করেছি।”
হতাশা এবং ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, “ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও আপনাদের প্রচারণায় অনেক যাত্রী ট্রেনে কিংবা ভেঙে ভেঙে চলে গেছেন। এ কারণে ফাঁকা কাউন্টারে বসে আছি।”
এসপি গোল্ডেন লাইন কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারী মোহাম্মদ মাসুদ জানান, যশোর-সাতক্ষীরা লাইনে তাদের ২০টি গাড়ি চালাতেই যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের গাড়ি বেশি তাদের চালানও ফেরত আসবে না।
শ্যামলী পরিবহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রিমন বলেন, “ভিড় নেই, যা যাত্রী দেখছেন আগে থেকে টিকেট টাকা যাত্রী। তবে লোকজন কম থাকলেও ব্যবসা ভালো।’’
তিনি জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে ভিড় কমে গেছে। রাস্তায় যানজট নেই। এর ফলে যাতায়াতে ভোগান্তি কমেছে যাত্রীদের।
শ্যামলী কাউন্টারে নওগাঁর গাড়ির জন্য অপেক্ষারত যাত্রী ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মাসুদ আলম বাংলানিউজকে বলেন, “আগে থেকেই টিকিট কাটা ছিল। সমস্যা হওয়ার আশঙ্কায় এক ঘন্টা আগেই এসেছি। কিন্তু এখন দেখছি, কোনো সমস্যা নেই। আগে না এলেও হতো। প্রতিবারে চেয়ে এবার ভিড় কম।”
এসআর পরিবহনের কাউন্টারে বিকাল ৩টার গাড়ি ধরার জন্য দুপুর দেড়টা থেকে বসে ছিলেন গাইবান্ধার যাত্রী ব্যবসায়ী গোলাম ফারুক।
বাংলানিউজকে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ছুটির কারণে কোনো ভিড় নেই। ভিড়ের আশঙ্কায় গাড়ি ছাড়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে থেকেই কাউন্টারে অপেক্ষা করছি। তবে এতো আগে না এলেও হতো।’’
নাবিল পরিবহনের কর্মকর্তা যুবরাজ বলেন, “যাত্রী কম। তবে ভিআইপি গাড়িগুলোতে বেচাকেনা ভালো হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের সাধারণ গাড়ির টিকিট কেনার লোক নেই।”
এদিকে, যাত্রীর জন্য বিআরটিসি মাইকিং করছে দিনভর। অনেক গাড়িই আসন ফাঁকা রেখে ছেড়ে দিতে হচ্ছে সরকারি এ পরিবহন সংস্থাকেও।
যাত্রীর জন্য বিআরটিসির মূল কাউন্টারে দিনাজপুরের টিকিটে ১৭০ টাকা, বগুড়ার টিকিটে ৮০ টাকা এবং কুষ্টিয়ার টিকিটে ৫০ টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এরপরও আসন ফাঁকা রেখেই গাড়ি ছাড়তে হচ্ছে তাদের।
বিআরটিসি’র কল্যাণপুরের ডেপুটি ম্যানেজার (অপারেশন) নূর-ই-আলম বাংলানিউজকে বলেন, “কল্যাণপুর থেকে রাজশাহীতে এবার ১০টি গাড়ি ছাড়া হয়েছে। এতে যাত্রীর সাড়া ভালো। যদিও ডাবল ডেকার হওয়ায় প্রথম ট্রিপে যাত্রী কিছু কম ছিল। আর কোনো গাড়ি রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে না।”
দীর্ঘ ছুটি হওয়ায় যাত্রী কম এবং বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হঠাৎ করে যাত্রী বেশি কমে গেছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৭০৭ ঘণ্টা, আগস্ট ১৬, ২০১২
এসএমএ/ সম্পাদনা: কাজল কেয়া, নিউজরুম এডিটর ও অশোকেশ রায়, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর