 |
| ছবি: সোহেল সরওয়ার/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম |
চট্টগ্রাম: প্রবল বর্ষণে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকা। শনিবার রাতভর চলতে থাকা বর্ষণ রোববার সকাল থেকে আরও প্রবল হওয়ায় সচরাচর জলাবদ্ধতা তৈরি হয় না এমন অনেক এলাকাও পানির নিচে চলে গেছে। বিভিন্ন বাসা, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। জলাবদ্ধতার কারণে ঘরে আটকা পড়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলসহ গন্তব্যে পৌঁছুতে পারছেন না অনেকেই।
নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা তরিফুল নেওয়াজ কবির বাংলানিউজকে জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২০৫ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
তিনি জানান, শনিবার রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হলেও রোববার ভোর শুরুর আগ থেকেই মুষলধারে বর্ষণ শুরু হয়েছে।
এ বর্ষণ কমবেশি আরও ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) জলাবদ্ধতা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর বিজয় কুমার দাশ বাংলানিউজকে বলেন, ‘একটানা বৃষ্টির কারণে ড্রেনগুলোতে পানির স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এতো পানি নালা-নর্দমা দিয়ে ঠিকমতো অপসারণ হচ্ছে না। এর ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।’
রোববার ভোর থেকে নগরীর বাকলিয়ার তিনটি ওয়ার্ডের প্রায় সব এলাকা, দেওয়ানবাজার, বাদুরতলা, চকবাজার, কাপাসগোলা, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, মুরাদপুর, শুলকবহর, বিবিরহাট, পাঁচলাইশ ও কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহর ও পতেঙ্গার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর পানিতে ডুবে গেছে এলাকাগুলো। অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাগুলোতে জমে থাকা পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সেগুলোর সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারছে না।
সকালে নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বহদ্দারহাট মোড় থেকে মুরাদপুরের দিকে সড়কের উপর পানির তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মস্থলে যাবার জন্য শ্রমজীবী শত, শত মানুষ যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ভ্যানগাড়ি ছাড়া অন্যান্য যানবাহন ওই সড়ক পার হতে পারছে না।
বহদ্দারহাট থেকে মুরাদপুরের আগে এন মোহাম্মদ প্লাস্টিকের শোরুমের আগ পর্যন্ত সড়ক ভ্যানগাড়িতে করে পার হওয়ার জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে ।
নগরীর মোহরা কামালবাজার এলাকার বাসিন্দা সুরুজ সরকার বাংলানিউজকে বলেন, ‘কামালবাজার থেকে বাসে বহদ্দারহাট আসার পর আমাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দেড় কিলোমিটার এলাকা পানিতে হেঁেট এন মোহাম্মদ প্লাস্টিকের সামনে যাই। সেখান থেকে মাইক্রোবাসে করে কাজীর দেউড়ি আসি।’
দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চকবাজার এলাকায় পানিতে আটকা পড়ে বহদ্দারহাটের একটি পোশাক কারখানার কর্মীদের বহনকারী একটি বাস। প্রায় আধাঘণ্টা অপেক্ষার পর তাদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পানি মাড়িয়েই বাদুরতলা হয়ে বহদ্দারহাটের দিকে হাঁটতে থাকেন পোশাক কারখানার অধিকাংশ নারী শ্রমিক।
চকবাজার ওয়ার্ডের জয়নগর আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় পানিতে আটকা পড়েন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু। পরে কিছুদূর পায়ে হেঁটে এবং কিছুদূর রিকশায় চেপে চকবাজার কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন স্কুলের সামনে নিজের ওয়ার্ড কার্যালয়ে পৌছান তিনি।
কাউন্সিলর মিন্টু বাংলানিউজকে বলেন, ‘কাপাসগোলার অধিকাংশ কলোনি, ভবনের নীচতলা, এমনকি আমার ওয়ার্ড অফিসের নীচেও পানি উঠেছে।’
কাপাসগোলা নবী কলোনির বাসিন্দা সুমন আইচ বাংলানিউজকে বলেন, ‘ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি মেঝেতে সব পানি। সকাল হতে পানির নিচে চলে গেছে খাট, আসবাবপত্র।’
এদিকে দুপুর ১২টার পর থেকে নগরীর অধিকাংশ এলাকার পানি নামতে শুরু করে। তবে জোয়ারের কারণে নিচু এলাকাগুলোর পানি দ্রুত সরছে না।
চসিকের কাউন্সিলর বিজয় কুমার চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘এ মৌসুমে ৭ কোটি টাকা খরচ করে ১৭টি স্কেভেটরের মাধ্যমে খাল থেকে ২২ হাজার ট্রাক মাটি তুলেছি। তবে চাক্তাই খালের উপর দু’টি সেতুর কাজ চলছে। এতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় পানি যাচ্ছে না।’
জলাবদ্ধতা মুক্ত নগরী গড়তে হলে নতুন খাল খননের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন বিজয় কুমার চৌধুরী।
বাংলাদেশ সময়: ১৪৫৭ ঘণ্টা, জুন ২৪, ২০১২
আরডিজি/ সম্পাদনা: জাকারিয়া মন্ডল, অ্যাসিসট্যান্ট আউটপুট এডিটর